গুলি আতংক
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪ ১৮:২৩ পিএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৪ ১৯:৩১ পিএম
সেন্টমার্টিন। ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশি ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় ৬ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে যাত্রী ও পণ্যবাহী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ খাদ্য সংকটের আশংকা তৈরি হয়েছে।
সেন্টমার্টিনে ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দার বসবাস। যাদের যোগাযোগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম নৌ-যান। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে এখন টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটের নাফনদীর নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্টে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশি ট্রলার লক্ষ্য করে ছোঁড়া হচ্ছে গুলি।
গত ৫ জুন, সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার সময় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের বহনকারী নৌযানে গুলিবর্ষণ করা হয় মিয়ানমার থেকে। এতে ট্রলারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি। এরপর শনিবারও পণ্যবাহী ট্রলারে আবারও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত না হলেও ট্রলারটিতে গুলি লাগে সাতটি।
এমন পরিস্থিতিতে ৬ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে নৌরুটে সব ধরণের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন স্পীড বোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, ‘বোটে প্রকাশ্যে গুলি করতে দেখে ট্রলার চালক ও মানুষের মধ্যে আতংক তৈরি হয়েছে। এতে নৌ রুটে ট্রলার নিয়ে যাতায়ত করতে রাজি নন কেউ। ওই পথ ছাড়া সেন্টমার্টিনে আসার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বা রুটও নাই। প্রতিদিন সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌ রুটে ৪টি ট্রলার ও ৬টি স্পীড বোটের মাধ্যমে শতাধিক মানুষ আসা-যাওয়া করার পাশাপাশি খাদ্য ও নিত্যপণ্য বহন করতেন। দ্বীপে যে পরিমাণ খাদ্যপণ্য রয়েছে তা দ্বীপে অবস্থানকারি মানুষের ১০ দিনের বেশি যাবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবে কয়েকদিনের মধ্যে খাদ্য সংকট তৈরি হবে।’
দ্বীপের বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, ‘টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে নাফ নদীর মোহনার শেষে নাইক্ষ্যংডিয়া এলাকা দিয়ে পার হওয়ার সময় মিয়ানমারের প্রান্ত থেকে দ্বীপে যাতায়াত করা বোটগুলো লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। যার কারণে মানুষ প্রাণের ভয়ে পারাপার করতে চায় না। তবে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নাকি বিদ্রোহীরা গুলি চালাচ্ছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ। গত কয়েক দিনে ২-৩টি বোটে এ রকম আক্রমণ চালানো হয়। পরে বোট চলাচল বন্ধ করে দেন মালিকরা। এ পরিস্থিতি খাদ্য সংকটের আশংকা তৈরি হয়েছে।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দ্বীপে আসার পথে নাইক্ষ্যংডিয়া সীমান্ত থেকে সেন্টমার্টিনগামী নৌযানে মিয়ানমার থেকে গুলি ছোড়ার কারণে গত ৬ দিন ধরে সেন্টমাটিন-টেকনাফ যাত্রী ও পণ্যবাহী সব নৌ-যান চলাচল বন্ধ। যার কারণে দৈনন্দিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংকট হওয়ার মুখে। সমাধান না হলে দ্বীপবাসীর অবস্থা খুব সংকটাপন্ন হবে। সমস্যা দীর্ঘ হওয়ার আগে যেন সরকার সমাধানের চেষ্টা করেন সেই কামনা করছি।’