উপজেলা নির্বাচন
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ২১:৫১ পিএম
খুলনা প্রেস ক্লাবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইচগাতী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান। প্রবা ফটো
খুলনার রূপসায় পরাজিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা। গত চার দিনে উপজেলার ৫ ইউনিয়নে চালানো এসব হামলায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। আহতরা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ৫ জুন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এ হামলা, নির্যাতন ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার ফেরদৌস আহম্মেদ। শনিবার (৮ জুন) খুলনা প্রেস ক্লাবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইচগাতী ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৫ জুন রূপসা উপজেলা নির্বাচনে ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সরদার ফেরদৌস আহম্মেদ ৩টি ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছিলেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে তার পরাজয় হয়। বিজয়ী প্রার্থী এসএম হাবিব ও তার সমর্থকরা ফল ঘোষণার পর থেকেই ফেরদৌস আহম্মেদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। বিভিন্ন ইউনিয়নে তার সমর্থকদের ওপর হামলা, নারীদের শ্লীলতাহানি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ ইউনিয়নে কাপ পিরিচের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার বিবরণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আইচগাতী ইউনিয়নে ১৯ জন, নৈহাটি ইউনিয়নে ১৭ জন, শ্রীফলতলা ইউনিয়নে ১০ জন ও বাহিরদিয়া ইউনিয়নের ৫ কর্মী-সমর্থকের ওপর হামলার কথা জানানো হয়। এ ছাড়াও জাবুসা, মৈশাঘুনি, বাধাল, জোয়ার গ্রামের অন্তত ১৫-২০টি বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের হামলায় পারভেজের মা, স্ত্রী ও শিশুসন্তান আহত হন। এ ছাড়াও ঘাটভোগ ইউনিয়নে একটি দোকানে তালা মেরে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। যাদের মধ্যে ২৭ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত অধিকারী বলেন, উপজেলা নির্বাচন কোনো দলীয় নির্বাচন ছিল না। অথচ বিজয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন তারা দলের পুরাতন কর্মী। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা করে তাদের নামেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করে বলেন, এসব হামলার ঘটনায় আমার কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। প্রতিপক্ষরা আমার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বাকিগুলো ছোটখাটো ঘটনা। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।