জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৮:০৭ পিএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪ ১৮:৩৪ পিএম
বকশীগঞ্জে সাংবাদিক মাসুদ উল হাসানের ওপর হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রবা ফটো
জামালপুরের বকশীগঞ্জে দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি মাসুদ উল হাসানের ওপর হামলা, মারধর, ক্যামেরা ছিনতাই ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৭ জুন) রাত পৌনে ১২ টার দিকে পৌর শহরের রাসেল আমিন মার্কেটের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি আতিক মিয়া ও মাসুমা ইয়াছমিন স্মৃতি এই হামলার ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় রাতেই চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক মাসুদ উল হাসান।
বকশীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক মাসুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসস্ট্যান্ড অফিস থেকে মোটরসাইল করে বাসায় ফিরছিলেন সাংবাদিক মাসুদ উল হাসান। রাসেল আমিন মার্কেটের সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই উৎপেতে থাকা সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা ইয়াছমিন স্মৃতি ও তার স্বামী আতিক মিয়া দলবল নিয়ে মাসুদের উপর হামলা চালায়। এই হামলায় তাদের সঙ্গে স্মৃতির বাবা মজিবর মিয়া ও ভাই সজলও জড়িত ছিল।
তারা মাসুদকে মোটরসাইল থেকে ফেলে দিয়ে এলোপাথারিভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। আতিকের হাতে থাকা ধারাল চাকু দিয়ে মাসুদের হাতে ও পিঠে আঘাত করে। এ সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে মাসুদের চিৎকারে পথচারী, সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নেয়।
সাংবাদিক মাসুদ উল হাসান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরছিলাম। এ সময় সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান স্মৃতি ও তার স্বামী আতিকসহ ৮-৯ জন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। গাড়ি ভাঙচুর, ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। এই ঘটনায় রাতেই বকশীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তবুও আসামিদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ লায়ন বলেন, প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা এখনও পায়নি। এরইমধ্যে আবার একই কায়দায় তারা সাংবাদিক মাসুদের ওপর হামলা করেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
তবে এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুমা ইয়াছমিন স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই ঘটনা সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এসআই তারেক মাসুদ বলেন, ‘এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে, সন্ত্রাসীদের হামলায় জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১৫ জুন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। ১৬ জুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুন রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন নাদিম। গুরুতর আহত নাদিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বেশিক্ষণ তিনি জীবনরক্ষার যুদ্ধ চালাতে পারেননি। ১৫ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নাদিম একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ অন্য সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তদের ছোবলে জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়া সাংবাদিক নাদিমের। ওই উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর পোষ্যবাহিনী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও শেষ হয়নি। এরইমধ্যে আবার নতুন করে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দেশে সাংবাদিকতার ইতিহাসে সম্ভবত সর্বাধিক আলোচিত ঘটনা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড। প্রায় এক যুগ স্পর্শ করতে চলেছে কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, ওই ঘটনার রহস্য উন্মোচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো শুধু ব্যর্থতারই পরিচয় দেয়নি, ফিরে ফিরে তাদের অঙ্গীকার প্রতিশ্রুতি আমাদের বিস্মিত যুগপৎ আরও প্রশ্নমুখর করতে বাধ্য করেছে।