এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৫:০১ পিএম
গ্রোথ হরমোনের অভাবে ১৭ বছর বয়সেও শিশুর মতো সুমাইয়া আক্তার। প্রবা ফটো
রাস্তায় বসে খেলছে তিন শিশু। কেউ দেখলে বলবে, তাদের বয়স চার কি পাঁচ বছর। কিন্তু তিনজনের মধ্যে একজনের বয়স ১৭ বছর। দেখে বোঝার উপায় না থাকলেও এটাই সত্য। শিশুর মতো হলেও সুমাইয়া আক্তারের বয়স ১৭ বছর।
সুমাইয়ার বয়সি অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, কেউ কলেজে পড়ে। কিন্তু সুমাইয়ার বয়স ও আচার-আচরণ শিশুর মতোই।
রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পবিত্রঝাড় এলাকার জামাল উদ্দিন ও সুরতন নেছার পাঁচ সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ সুমাইয়া আক্তার। ২০০৭ সালের ২২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করে সুমাইয়া। এরপর বয়স পাঁচ বছর হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে বড় হয়নি সে। খেলার সঙ্গীরা স্কুলে ভর্তি হলেও ঠিকমতো হাঁটতে এবং কথা বলতে না পারায় সুমাইয়ার স্কুলে যাওয়া হয়নি। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবার। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ভিটামিন আর আয়রন ওষুধ খাওয়ানো হতো।
১৫ বছর বয়সের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সুমাইয়া। মুখ থেকে লালা ঝরাসহ শরীর ফুলে যায়। তাকে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসকরা জানান, গ্রোথ হরমোনের সমস্যার কারণে বাড়েনি সুমাইয়া। তাই শরীরের সঙ্গে আচার-আচরণও শিশুসুলভ রয়ে গেছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে। এতে খরচ হবে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা। স্বাভাবিক চিকিৎসা করানোর যেখানে অর্থ নেই, সেখানে বিদেশ নেওয়া দূরের স্বপ্ন। একটু সুস্থ হয়ে উঠলে তাই সুমাইয়াকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।
মা সুরতন নেছা বলেন, সুমাইয়ার বয়স যখন চার থেকে পাঁচ বছর, তখন দেখি সে আর বাড়ছে না। কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছি। ভিটামিন-আয়রন ওষুধ খাইয়েছি। ওর বয়সি মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বেঁচে থাকতে যেন মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারি, এটাই চাওয়া বলে জানান তিনি।
সুমাইয়ার বড় ভাই কামরুল ইসলাম বলেন,ওর গ্রোথ হরমোনের সমস্যা হয়েছে। ছোট থাকতে চিকিৎসা করালে বোনটি সুস্থ হয়ে উঠত।
রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহ মো. সরওয়ার জাহান বলেন, সুমাইয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সমস্যা যদি তার চিকিৎসার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারেও আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।