× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘রাজা’

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৪:৪৩ পিএম

কোরবানির জন্য প্রস্তুত দিনাজপুরের রাজা। সম্প্রতি পার্বতীপুর উপজেলার মধ্য দুর্গাপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের খামারে। প্রবা ফটো

কোরবানির জন্য প্রস্তুত দিনাজপুরের রাজা। সম্প্রতি পার্বতীপুর উপজেলার মধ্য দুর্গাপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের খামারে। প্রবা ফটো

এবার কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে ‘দিনাজপুরের রাজা’! তবে এ রাজা কোনো রাজ্যের রাজা নয়। কোরবানির জন্য লালনপালন করা বিশাল সুঠামদেহী একটি ষাঁড়। যার নাম দিনাজপুরের রাজা। সাদা-কালো রঙের এ ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট। ওজন ৩৫ মণ বা ১ হাজার ৪০০ কেজি। রাজাকে ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন মালিক।

রাজার অবস্থান দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মধ্য দুর্গাপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের খামারে। আব্দুর রাজ্জাক জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবারে নিজের বাড়িতে রাজাসহ ১০টি গরু লালনপালন করেছেন। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে খামারে ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি থেকে জন্ম নেয় রাজা। হলেস্টান ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টিকে রাজার হালেই লালনপালন করেছেন। ষাঁড়টি দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ছুটে আসছে রাজ্জাকের বাড়িতে। ভিড় করছে রাজার পাশে।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জন্মের পর রাজাকে দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে লালনপালন করা হচ্ছে। খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে, খড়, ঘাস, ছোলা, মসুরের ডাল ও ভুসি, ভুট্টার আটা, চোপড়, খুদের ভাত, খৈল, ধানের গুঁড়া ও চিটাগুড়। এতে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। মাঝে মাঝে তাকে কাঁচাকলা, গাজর, আপেলসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলও খাওয়ানো হয়। থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ৩টি ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। প্রতিদিন তিন-চারবার গোসল করাতে হয়। প্রয়োজনমতো খাবার ও সঠিক পরিচর্যায় দিন দিন গরুটির আকৃতি এবং ওজন বেড়েছে। চার বছরে বর্তমানে ৩৫ মণ দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল স্কেলের মাধ্যমে ওজন মাপা হয়েছে। 

ষাঁড়টি খামার থেকে বের করতে প্রয়োজন হয় চার থেকে পাঁচজন মানুষ। তা না হলে রাজার শক্তিমত্তা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এজন্য হাটে আনা-নেওয়া করা খুবই কষ্টকর মনে করছেন আব্দুর রাজ্জাক। তাই খামার থেকেই রাজাকে বিক্রির চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে খুলনা, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা রাজার দাম হাঁকিয়েছেন। এ পর্যন্ত লালনপালন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টাকা। তাই প্রত্যাশিত দাম না হওয়ায় এখনও অপেক্ষায় আছেন আব্দুর রাজ্জাক।

রাজ্জাকের দাবি, জেলায় তার গরুটিই সবচেয়ে বড়। শান্ত প্রকৃতির হলেও ষাঁড়টি মাঝেমধ্যে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তখন সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে। আর রাখা সম্ভব নয় প্রিয় রাজাকে। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘সন্তানের মতো রাজাকে লালনপালন করা হচ্ছে। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন নিয়ে ষাঁড়টি বড় করা হয়েছে। রাজা নামে ডাক দিলে ষাঁড়টি সাড়া দেয়। ঘুরে তাকায়। বড় মায়া লেগে আছে রাজার প্রতি।’ 

রাজার চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এআই টেকনিশিয়ান মো. জাকারিয়া হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটি পশুসম্পদ অধিদপ্তরের ১৬৮ নম্বর প্রুভেন ব্লুর সিমেনের হলেস্টান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। ষাঁড়ের মালিক রাজ্জাক আমার বন্ধুমানুষ। তার গরুর খামারের প্রতি আগ্রহ থাকায় বিভিন্ন সময় চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শ অনুযায়ী খাবার দেওয়াসহ লালনপালন করে বড় করা হয়েছে রাজাকে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা