এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৪:১৯ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় রেমাল-পরবর্তীতে দেখা দিয়েছে খাওয়ার পানির সংকট। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করছে পৌরবাসী। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে ১০ হাজার পুকুরে লবণ পানি প্রবেশ করায় তিন লক্ষাধিক মানুষের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় চারশ পানির কলে লবণ পানি প্রবেশ করায় সেগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে। দূষিত পানির কারণে হাসপাতালগুলোতে পানিবাহী রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারিভাবে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর তথ্যমতে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৮০টি গ্রামসহ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ৪৩টি খাবার পানির উপযোগী পুকুর রয়েছে। প্রায় ৭ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল থাকলেও আর্সেনিক ও আয়রনের কারণে ব্যবহারে অনুপযোগী। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ১০ হাজার পানির ট্যাংক রয়েছে। এ ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার পুকুর রয়েছে। এ পুকুরগুলো থেকে প্রতিনিয়ত খাবার পানি সংগ্রহ করে উপকূলীয় এ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের তিন লক্ষাধিক মানুষ।
গত ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় ১০ ফুট জলোচ্ছ্বাসে পুকুর ও ময়লা আবর্জনায় ভরা ডোবা-নালা একাকার হয়ে গেছে। ভাসিয়ে নিয়ে যায় গোটা উপজেলার দুই শতাধিক কাঁচা-পাকা ও কার্পেটিং রাস্তাঘাট। যার ফলে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী এ জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র পৌর শহরের হোটেল রেস্তোরাঁ ও বসবাসরত কয়েক হাজার মানুষের খাবার পানির চাহিদা মেটানোর উপজেলা প্রশাসনিক পুকুর, পুরাতন থানার পুকুর, কাঁঠালতলা হিন্দুপাড়া পুকুরেও নদীর লবণ পানি ঢুকে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তীকালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট উন্নত মেশিনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করে থাকলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে নিতে হচ্ছে পানি, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এদিকে নদীর তীরবর্তী খাউলিয়া, মোরেলগঞ্জ সদর, বারইখালী, বহরবুনিয়া, পঞ্চকরণ, তেলিগাতী, পুটিখালী, বলইবুনিয়া ও হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের হাজার হাজার পুকুরের পানি দূষিত হয়ে খাবার পানির সংকটে ভুগছে গ্রামবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে এ উপজেলায় ৫০টি সৌরশক্তি চালিত কলের মধ্যে ১০টির চাল উড়ে গেছে। ৩৮৫টি হস্তচালিত কল পানি ঢুকে অকেজো হয়ে পড়েছে। এগুলো সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম তারেক সুলতান বলেন, পুকুরগুলোকে উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক থেকে প্রাপ্ত ৫০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।