রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১২:৫৭ পিএম
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ফাইল ফটো
৯ উপজেলা ও একটি সিটি করপোরেশন নিয়ে রাজশাহী জেলা। সদ্যসমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই জেলার ৯ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই স্থানীয় এমপিদের অনুসারী। ব্যতিক্রম ঘটেছে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের নির্বাচনী এলাকায়। বাঘা ও চারঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের রাজশাহী-৬ আসনটি। বুধবার চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে এই দুই উপজেলার ভোটের ফলাফলে।
মাঠের রাজনীতির সমীকরণে এমপিরা সাধারণত তাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের আস্থাভাজন ব্যক্তিকেই দেখতে চান। এর জন্য তারা নিজ নিজ এলাকার নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করে থাকেন। তবে চারঘাট ও বাঘা নির্বাচনে এমপি শাহরিয়ার আলমের কোনো বাড়াবাড়ি দেখা না গেলেও তার অনুসারীদের কাজ করতে দেখা গেছে পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে।
রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলার ভোট গ্রহণ শেষে বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ঘোষণা করা হয় ফলাফল। সে সময় শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ অবধি বাঘায় চেয়ারম্যান হিসেবে লায়েব উদ্দিন লাভলু এবং চারঘাটে কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন নির্বাচিত হন। উভয় প্রার্থীই তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
লাভলু ১০৬ ভোটে আর মামুন ২৪০ ভোটে জয়লাভ করেন। বাঘায় লাভলুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মো. রোকনুজ্জামান। আর মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম এবং আরেক প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া। দুই উপজেলার ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পদধারী নেতা। এ ছাড়া তারা রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের যে দুটি ধারা রয়েছে সেই দুই ধারার কোনো না কোনো পক্ষের অনুসারী বা আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
বিজয়ী প্রার্থীদের দুজনই বাঘা-চারঘাট সংসদীয় আসনের এমপি শাহরিয়ার আলমের কতটা কাছের তা নিয়ে হিসাব কষতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। আগামী ৫ বছর এই দুই উপজেলার চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আলমের সংসদীয় এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অংশীদার হবেন। তেমনি স্থানীয় রাজনীতিতেও এমপির বলয় কেমন থাকবে তাও অনেকটা নির্ভর করছে এই দুই চেয়ারম্যানের ওপর। কারণ তারা দুই উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী।
বাঘার চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহরিয়ার আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী ও আসনটির সাবেক এমপি রাহেনুল হককে সমর্থন দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি নিজেও রাজশাহী-৬ আসন থেকে এমপি হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন। একসময়ের ছাত্রলীগ নেতা লাভলু এখন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাঘা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান। সাবেক এমপি রাহেনুল হক, বাঘার চেয়ারম্যান লাভলু এবং বাঘার মেয়র আক্কাছ আলী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আসাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এবার উপজেলা নির্বাচনে তিনি এমপি শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ইসিতে নালিশ করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় শাহরিয়ার আলমও লাভলুর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করেছিলেন।
এদিকে চারঘাটের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত ফকরুল ইসলাম এমপি শাহরিয়ার আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ফকরুল চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে বিজয়ী প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসান মামুন তার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। স্থানীয়রা জানান, মামুন এতদিন এমপির অনুসারী থাকলেও এবার নির্বাচনে তার চাইতে ফকরুলকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন শাহরিয়ার আলম। এ অবস্থায় এমপি ও মামুনের সম্পর্কে চিড় ধরেছে বলে মনে করেন মামুনের অনুসারীরা।
তবে শাহরিয়ার শিবিরের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফকরুল ও মামুন দুজনেই এমপি শাহরিয়ারের আস্থাভাজন। তবে উপজেলার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিপ্লব ছিলেন রাহেনুল হকের অনুসারী। তিনি এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। ফকরুল তার ব্যবসায়িক কাজের কারণে এলাকায় তেমন একটা সময় দিতে পারতেন না। ফলে উপজেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কজেই এবার ছক কষেই মামুনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় সফলও হয়েছেন শাহরিয়ার আলম।