কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৪ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১২:৩৫ পিএম
রাজাপুর-শশীদল ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন। ছবি : প্রবা
আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে কুমিল্লার রাজাপুর-শশীদল ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন। রেলপথের ৭ কিলোমিটারের এ ডাবল লাইনটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে যাতায়াতে সময় কমে যাবে। রেলওয়ে কুমিল্লা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল রুটের ঢাকা থেকে আখাউড়া ও লাকসাম থেকে চট্টগ্রামের ডাবল লাইনের কাজ চার বছর আগে শেষ হয়। গত বছর কুমিল্লা থেকে লাকসামের ডাবল লাইনের কাজটিও শেষ হয়। সঞ্চালন সময় কমিয়ে আনতে ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দ্রুততার সঙ্গে ডুয়েলগেজ লাইনটি উদ্বোধন করা হয়। এতে ওই রুটে যাতায়াতে ২০ মিনিটের মতো সময় কমে যায়।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম ও আখাউড়া থেকে ঢাকার ডাবল লাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর মোট তিনটি অংশে ভাগ করে লাকসাম থেকে আখাউড়া ডাবল লাইনের কাজটি শুরু করা হয়। এর মধ্যে গত বছর কুমিল্লা থেকে লাকসাম অংশের ২৮ কিলোমিটার চালু করা হয়। বাকি দুই ভাগ হলো কুমিল্লা থেকে কসবা ও কসবা থেকে আখাউড়া।
জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে আখাউড়া ডাবল লাইন ডুয়েলগেজের কাজ ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে। কুমিল্লা থেকে কসবার ৩০ কিলোমিটার অংশটির কাজ প্রায় শেষ। শুধু সালদা নদী ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ার কারণে ওই অংশটি পুরোপুরি উদ্বোধন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে ওই অংশের কুমিল্লার রাজাপুর থেকে শশীদল পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার চালু করা হচ্ছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ট্রেনের একমুখী শিডিউলের কারণে একই সময়ে অনেক ট্রেন কুমিল্লা স্টেশনের কাছাকাছি অবস্থান করত। বিকাল ৩টায় চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেন কুমিল্লা স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বিপরীত থেকে আসা ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে ক্রসিং করানোর জন্য সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ট্রেনটিকে কুমিল্লা স্টেশন কিংবা সদর রসুলপুর স্টেশনে থামিয়ে রাখা হতো। বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও ৫টা ৫ মিনিটে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও দুটি ট্রেন ৫-১০ মিনিটের ব্যবধানে কুমিল্লা স্টেশনে পৌঁছায়। পাহাড়িকা ট্রেনটি সিলেট ও চট্টলা ট্রেনটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো। যার কারণে একটি ট্রেনকে ক্রসিং দিতে গেলে আরেকটি ট্রেন আটকে থাকতে হয় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের মতো। এভাবে প্রায় সব ট্রেনই কুমিল্লায় এসে আটকে যেত।
রেলওয়ে কুমিল্লার ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) লিয়াকত আলী মজুমদার জানান, আমরা আগামী সপ্তাহে রাজাপুর থেকে শশীদল পর্যন্ত ডাবল লাইনটি চালু করে দেব। এ অংশটির দৈর্ঘ্য কম হলেও গুরুত্ব অনেক। ট্রেন ক্রসিং করানো ও শিডিউল বিপর্যয় কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখবে ৭ কিলোমিটারের এ রেলপথ অংশটি।
তিনি বলেন, কুমিল্লা থেকে কসবা পর্যন্ত ডাবল লাইন এ বছরই উদ্বোধন করা যেত। কিন্তু সালদা নদী ব্রিজের মাটির গুণ খারাপ হওয়ায় সেখানে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে।
লাকসাম-আখাউড়া ডাবল লাইনের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের কো-অর্ডিনেটর আবদুল ওহাব বলেন, শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাজাপুর থেকে শশীদলের ডাবল লাইন অংশটি চালু করার পরিকল্পনা আমাদের আছে। বাকি কাজের অগ্রগতিও ভালো।
আখাউড়া থেকে কুমিল্লার কাজটি শেষ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ পুরোপুরি ডাবল লাইন হয়ে যাবে। এতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।