গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪ ২২:৪২ পিএম
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, কালিয়াকৈর। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
এঘটনার পর কালিয়াকৈরে পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের দুই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকালে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহামুদ সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাসির মোড়ল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কালিয়াকৈর পৌর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে র্যাগ ডে নাম করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ও কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমন খান, তার সহযোগী সাকিব হৃদয়, আকাশ ও হাসানসহ ১০-১২ জন শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাসের মাঠে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন ও কামরুলকে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করে। এ সময় তারা দুজনে দৌড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ডাইনকিনি সড়কে শাহ মখদুম মার্কেটের সামনে তাদের মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহতদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলামিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সংঘর্ষের বিষয়ে আগে কিছুই জানিনি। আজ একজন মারা যাওয়ার পর জানতে পেরেছি। ওই কমিটি দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সুফিয়া বেগম বলেন, বুধবার শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিদায়ি অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। র্যাগ ডে পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ওই ঘটনার জের ধরেই আজকে একটি পক্ষের হামলায় কলেজের একজন ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।