গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৪ ১৮:০৩ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪ ১৯:২০ পিএম
বুধবার রাত থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোছা. হেলেনা খাতুন ও তার ছেলে স্কুল শিক্ষার্থী অন্তর। প্রবা ফটো
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এসিডে ঝলসে ও ঘরে আগুন দিয়ে স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. ওসমান খান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার (৪ জুন) রাতে উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের মুনিরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ মোছা. হেলেনা খাতুন ও তার ছেলে স্কুলশিক্ষার্থী অন্তর বুধবার রাত থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হেলেনার মামা মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ শেখ জানান, ১৪ বছর আগে একই উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মো. ওসমান খানের সঙ্গে বিয়ে হয় হেলেনার। প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখেই হেলেনাকে বিয়ে করে ওসমান। প্রথম স্ত্রী থাকা এবং স্বামী মাদকাসক্ত ও বখাটে হওয়ার কারণে ৩ বছর পর বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাদের। পরে শিশুসন্তান অন্তরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান হেলেনা। তবে সন্তানকে দেখতে মাঝে মধ্যেই ওই বাড়িতে যেতেন ওসমান। ৭ বছর পর পুনরায় বিয়ে হয় তাদের।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি স্ত্রীর কাছ থেকে ব্যবসা করার জন্য টাকা চায় ওসমান। স্ত্রী টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ৪ জুন রাতে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী ও সন্তানের গায়ে জানালা দিয়ে এসিড নিক্ষেপ করে এবং ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে হেলেনা ও তার ছেলে অন্তরের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরদিন রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হেলেনা খাতুনের ভাই ইমরান শেখ জানান, আমার বোন হেলেনার মুখমণ্ডল হাত-পাসহ শরীরের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং ভাগ্নের অন্তরের শরীরের ২২ শতাংশ ঝলসে গেছে।
মুকসুদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শওকত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসিড নিক্ষেপ ও ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় হেলেনার বাবা চুন্নু শেখ মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ওসমান পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওসমান একজন খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।