× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিডরের ১৫ বছর, আজও আঁতকে ওঠেন উপকূলবাসী

ভোলা সংবাদদাতা

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ০৮:১০ এএম

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২ ১৩:২৯ পিএম

এখনও সিডরের ক্ষতচিহ্ন রয়ে গেছে বেশকিছু অঞ্চলে। প্রবা ফটো

এখনও সিডরের ক্ষতচিহ্ন রয়ে গেছে বেশকিছু অঞ্চলে। প্রবা ফটো

এক এক করে পেরিয়ে গেছে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৫ বছর। কিন্তু সে ঝড়ের ভয়াবহতার কথা আজও ভোলেননি উপকূলের মানুষ। এখনও সেই ঝড়ের কথা মনে করে আঁতকে ওঠেন। উপকূলের বিপন্ন জনপদে এখনও যেন সিডরের ক্ষতচিহ্ন পড়ে রয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গৃহপালিত পশুপাখি, জমির ফসল, পুকুর, মাছের ঘেরসহ আয়ের বিভিন্ন উৎস হারিয়ে অনেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। স্বাভাবিক হয়নি তাদের জীবিকাও।

সিডরবিধ্বস্ত ভোলা সদরের ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, ইলিশা, রামদাসপুর, বোরহানউদ্দিন, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার কুকরি, চরপাতিলা, চরমানিকাসহ বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের করুণ চিত্র। সহায়সম্বল হারিয়ে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সীমা নেই। আয়ের উৎস ও মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে তাদের আশ্রয় এখন নদীর কূলে বেড়িবাঁধের ওপর কিংবা রাস্তায়। এর মধ্যেই আবার বাঁধের বাইরের মানুষগুলো বর্ষায় জোয়ারে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জেলা সদরের বেশকিছু এলাকাসহ দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বাঁধ ও নদীতীরবর্তী বিপন্ন এলাকায় এখনও সিডরের ক্ষতচিহ্ন রয়ে গেছে। ঝড়, জোয়ারের পানি, নদী ভাঙনসহ একের পর এক বিপর্যয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা কিছুতেই যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না।

জোয়ারের পানি থেকে বাঁচতে তৈরি ঘর

ঘন ঘন দুর্যোগ আঘাত হানলেও ভোলার বিচ্ছিন্ন এলাকা ও উপকূলে এখনও অরক্ষিত মানুষ। তাদের অনেকে এখনও ঝড়ের পূর্বাভাস পান না। ফলে ঝড়ের সময় কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেন না।

লর্ড হার্ডিঞ্জ এলাকার লোকমান হোসেন, সিরাজ উদ্দিন, লাল মিয়াসহ অন্যরা বলেন, আকাশে মেঘ দেখলেই বুঝতে পারি ঝড় আসবে, কিন্তু কত নম্বর সিগন্যাল তা জানতে পারি না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, দুর্গম এলাকার সব স্থানে ঝড়ের পূর্বাভাস পৌঁছায় না, এতে দুর্যোগের সময় প্রস্তুতি নিতে পারেন না মানুষ। তাই সব এলাকায় ঝড়ের পূর্বাভাস পৌঁছানোর দাবি জানাচ্ছি।

সদরের রাজাপুর গ্রামের বাঁধে আশ্রিত মো. হোসেন ও তোফাজ্জল জানান, নদীর তীরে বসবাস করে আসছি। বানতুফান এলে জোয়ারের পানিতে ডুবতে হচ্ছে। আমরা বাঁচার জন্য ছোটাছুটি করি কিন্তু ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি না।

মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলের বাসিন্দারা

সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনপদ দৌলতখানের নেয়ামতপুর। সেখানে নেই আশ্রয়কেন্দ্র। ঝড়ের সময় তারা এখনও অরক্ষিতই থাকছেন।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির (সিপিপি) উপপরিচালক আ. রশিদ জানিয়েছেন, দুর্যোগের সময় ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে থাকেন। তারা দুর্গম এলাকায় গিয়েও দুর্যোগের বিষয়ে প্রচার চালান। এমন কোনো স্থান নেই যেখানে প্রচার হয় না।

ভোলা জেলা রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান আদিল হোসেন তপু বলেন, যেকোনো ঝড়ের সময় রেড ক্রিসেন্ট এগিয়ে আসে। ঝড়ের পূর্বাভাসের প্রচার, ঝড়ের পর উদ্ধার অভিযান এবং পরবর্তীতে খাদ্যসহায়তাও দিচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এদিকে, উপকূলের ওপর দিয়ে সিডর, আইলা, রেশমি, মহাসেন, রোয়ানু, বুলবুল, ফণী, আম্ফান, সিত্রাংসহ ছোটবড় অর্ধশতাধিক ঝড় বয়ে গেলেও সিডরের ভয়াবহতার কথা আজও ভুলতে পারছেন না উপকূলের মানুষ।

সিডরে জেলায় ৪২ জন নিহত ও ৫২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া কয়েক শ কোটি টাকার ক্ষতিক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২০ কিলোমিটার বাঁধ।

এদিকে ভোলা সদরের ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামে ঘূর্ণিঝড় সিডরে নিখোঁজ ৯ জেলের সন্ধান মেলেনি আজও। প্রিয়জন ফিরে আসবেপরিবারের এমন অপেক্ষার প্রহর যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু আজও সন্ধান মেলেনি সেই ৯ জেলের। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাদের লাশ পাওয়া যায়নি। তারা বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন জানেন না কেউ। প্রিয়জনের কথা মনে করে কেঁদে ওঠেন স্বজনরা। যেন এ কান্নার শেষ নেই।

উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের না পেয়ে এসব পরিবারে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। স্বজনদের হারিয়ে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কাটছে তাদের সংসার।

অভাবগ্রস্ত উপকূলের মানুষের ঘরবাড়ি

চন্দ্রপ্রসাদ গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, জসিম মাঝির ট্রলার নিয়ে সিডরের কয়েকদিন আগে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন গ্রামের ৯ জেলে। মাছ শিকার শেষে কারও নতুন ঘর তৈরি, কারও বিয়ে  বা সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোর কথা ছিল। কিন্তু সিডরের ঝড়ে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন বজলু, রুবেল, জসিম, নুরু, সহিদুল, ইব্রাহিম, মামুন, জামাল আর রুবেল নামে ৯ জেলে। তারা না ফেরায় অসমাপ্ত রয়ে গেছে কাজগুলো। তাদের না পেয়ে ১৫ বছর ধরে চরম কষ্টে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। এখনও তাদের মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তারা। কেউ কেউ আবার তাদের ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় আঘাত হানে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় সিডর। আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। রেড ক্রিসেন্ট বাংলাদেশের প্রধান সে সময় ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানির কথা বলেছিলেন। তবে সরকারিভাবে বলা হয়েছিল প্রাণহানি ৬ হাজারের মতো। এ ছাড়া অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানুষের ঘরবাড়ি, গবাদি পশু, ফসলের জমি তলিয়ে যায় পানিতে। সেই বিপর্যয়ের চিহ্ন এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন উপকূলবাসী।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা