শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৪ ১২:২২ পিএম
প্রতীকী ছবি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন মিল মালিক, শ্রমিক, কৃষকসহ সব শ্রেণির গ্রাহক। ভাঙাতে না পেরে এক মিলে আটকা পড়েছে ৬০০ মণ ধান। বিদ্যুৎ না থাকায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় কর্মচারীরাও বেকার বসে আছেন। উপজেলায় ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও ১০ মেগাওয়াটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরতি দিয়ে চলছে। নরসিংদীর ঘোড়াশাল গ্রিডে ১৬ মেগাওয়াটের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ।
কালীগঞ্জের ভাওয়াল জামালপুর এলাকায় আফসানা রাইস মিলের পরিচালক শ্রাবণ রানা বলেন, আমাদের সব কাজে বিদ্যুৎ লাগে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ধান স্তূপ করে রেখেছি। বিদ্যুৎ সংকটে ধান ভাঙাতে পারছি না। এলাকার কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে সিদ্ধ করা হয়। ধান শুকানো হয়। ধান থেকে চাল বানানো হয়। ৬০০ মণেরও বেশি ধান মিলের মাঠে পড়ে আছে।
মিলের শ্রমিক জান্নাত, মিন্টু, আবুল, সোহাগ, হৃদয়সহ কয়েকজন বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই। কোনো কাজকর্ম নেই। কালীগঞ্জে সব রাইস মিলেরই একই অবস্থা। আমরা দুরবস্থায় আছি।’ দুরবস্থায় পড়েছেন কৃষকরাও। ঘোলার টেক গ্রামের কৃষক রাফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি সকাল থেকে ধান ভাঙানোর জন্য বসে ছিলাম। ৩টার পরও বিদ্যুৎ আসেনি। ধান নিয়ে বসে থাকায় অন্যান্য গৃহস্থালি কাজও জমে গেছে। সব দিক থেকেই সমস্যা হচ্ছে। কী করব বুঝতে পারছি না।’
শুক্কুর আলী নামে আরেক রাইস মিল মালিক বলেন, ‘বিদ্যুৎ নেই, মিল চলে না। বিদ্যুৎ নিয়ে এর চেয়ে বেশি কথা বলতে চাই না। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে আছি। না ব্যবহার করতে পারতেছি পানি, না ভালোভাবে খেতে পারতেছি।’
কলা পাটুয়া গ্রামের চা দোকানি আওলাদ হোসেন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাত-দিন বসে থাকি। রাতে পরিবারের লোকজন ঘুমাতে পারে না। ঠিকমতো পানি খেতে পারছি না। এলাকায় কোনো টিউবওয়েলও নেই। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
কাপাইস গ্রামের মোস্তফা কামাল বলেন, ‘রেমালের তাণ্ডবের পর থেকে এই অঞ্চলে একেবারেই বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সারা দিন অলস সময় পার করছি। আমার সঙ্গে সহকর্মীরাও অলস সময় পার করছেন। দিনের পর দিন এভাবে বসে থেকে আর কতদিন।’
জানতে চাইলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কালীগঞ্জ উপকেন্দ্রের জুনিয়র প্রকৌশলী গৌতম দাস বলেন, ‘আমার উপকেন্দ্রের গ্রিডে বিদ্যুৎ নেই। এলাকার মানুষ বিদ্যুৎ পাবে কীভাবে? অনেকেই আমাকে ফোন করে নানা কথা বলে। গ্রাহকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি।’
উপকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আক্তার হোসেন বলেন, ‘কালীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ২৮ মেগাওয়াট। আপাতত ১০ মেগাওয়াট দিচ্ছি। নরসিংদীর ঘোড়াশাল গ্রিডে ১৩২-৩৩ কিলোভোল্টের (কেভি) দুটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার রয়েছে। একটি ১৬ আরেকটি ১২ মেগাওয়াটের। এর মধ্যে ১৬ মেগাওয়াটের ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে গেছে। শুনেছি পিডিবি একটি ট্রান্সফরমার চট্টগ্রাম থেকে আনবে। সংযোগ দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’