× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ

আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৪ ১০:২১ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মাদাম বিবিরহাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের নিয়োগসংক্রান্ত পরিপত্রের নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ অমান্য করে জালিয়াতির মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এই বিষয়ে মাউশির সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ দিয়েও লাভ হচ্ছে না বলেও জানান তারা। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে দাবি করে তারা বলছেন, এর সঙ্গে মাউশির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও জড়িত।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এ বি এম গোলাম নুরকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় স্কুলের নিয়োগ কমিটি। ওই নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুল আলম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস মোস্তফা আলম সরকার, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদুল ইসলাম খান ও স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বশির আহম্মদ। এর মধ্যে জাহেদুল ইসলাম খান মাউশির মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে ছিলেন।

মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ কমিটিতে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা রাখা হয়নি। এ ছাড়া কোনো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি অথবা নিয়োগের পদের বিপরীতে মামলা থাকলে সেখানে কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ নেই। মাদাম বিবিরহাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মাউশির এই নির্দেশনাটিও লঙ্ঘন করেছে নিয়োগ কমিটি।

বিদ্যালয়টির মে মাসের একটি বেতন বিলের কপি প্রতিদিনের বাংলাদেশের হাতে এসেছে। যেখানে যৌথ স্বাক্ষর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম রফিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক এ বি এম গোলাম নুর। নিয়ম অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে বেতন বিল অনুমোদন হয়। এই ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম ঘটলÑ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে প্রায় এক বছর ধরে সেখানে সভাপতির বদলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষর করছেন। ২০২৩ সালের ১৮ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের আদালত থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান লিভ পিটিশনটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম ও মাদাম বিবির হাট শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রামের প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করবেন।’

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি শামসুল আলমকে শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেয় শিক্ষা বোর্ড। পরে তার নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটি করে বোর্ড। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৬ মার্চ শামসুল আলমের সভাপতি পদ বাতিল করে বোর্ড। একই দিন মোহাম্মদ আলমকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেয় বোর্ড। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শামসুল আলম আদালতে রিট করলে রিটে জয়ী হন শামসুল আলম। পরের বছরের ৩০ মার্চ শামসুল আলমকে সভাপতির দায়িত্ব দিতে বোর্ডকে আদেশ দেন আদালত। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আবার মোহাম্মদ আলম আপিল করেন। পরে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে আদালত মামলা মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেতন বিলে স্বাক্ষর করার আদেশ দেন। এখন পর্যন্ত সেই আদেশ বহাল আছে।

আদালতের ওই আদেশ থেকে এটি স্পষ্ট যে, স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। এই কারণে সভাপতির বদলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে রুটিন কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও মাউশির পরিপত্রের নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরতে পরতে অনিয়ম করা হচ্ছে অভিযোগ করে স্কুলটির একজন শিক্ষক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ৪০ নম্বরে। বিধি লঙ্ঘন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর বাইরে লিখিত পরীক্ষায় যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছেন এমন একজনকে ভাইবায় বেশি নম্বর পাইয়ে দিয়ে প্রথম করা হয়েছে। ভাইবা বোর্ড গঠনেও নিয়ম মানা হয়নি। দুর্নীতি যে হয়েছে তা তো এসবেই স্পষ্ট। শুনেছি বড় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ হয়েছে। এটা বিদ্যালয়ের পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত চিঠি দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না জানিয়ে মোহাম্মদ আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এই নিয়োগের অনিয়মের বিষয়ে আমি সবাইকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। অনেক জায়গায় সশরীরেও গেছি। কেউ কোনো অভিযোগ পাত্তা দিচ্ছে না।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির আঞ্চলিক উপপরিচালক উত্তম খীসা বলেন, এই অভিযোগ আমি শুনেছি। নিয়ম অনুযায়ী মামলা থাকলে নিয়োগ কমিটি করার সুযোগ নেই। যদি এই নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়া হয় সেটা বৈধ হবে না। তবে এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার। তাকেই এর দায় নিতে হবে।’ 

তবে পরে শাহজাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি জানিয়ে তিনি ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ জারি করা আদালতের একটি আদেশের কপি দেখান। যেখানে শামসুল আলমকে সভাপতির দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। তবে এরপর সেই আদেশের বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আলম আরেকটি পিটিশন করেন এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ভিন্ন আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বেতন বিল পাস হচ্ছে; এসব তথ্য তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে জানি না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।’ 

এসব বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি এস মোস্তফা আলম সরকার। তিনি বলেন, ‘এখানে যা হয়েছে সবই উপরের নির্দেশে হয়েছে। তা ছাড়া আপনি এসব প্রশ্ন করার কে?’

এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে দুর্নীতি ও অনিয়মে ভরা উল্লেখ করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাউশির আঞ্চলিক উপপরিচালক সবকিছুই জানেন। জেনেবুঝেই তারা সব করেছেন। এখানে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাবও আছে। এই নিয়োগে প্রধান শিক্ষক যিনি হয়েছেন, তিনি আঞ্চলিক উপপরিচালকের ব্যাচমেট ছিলেন। তারা দুজন বন্ধু।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপপরিচালক উত্তম খীসা বলেন, ‘তিনি বিএড-এ আমার ব্যাচমেট ছিলেন। পরিচয় আছে। কিন্তু এসবের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা