কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ২২:২৮ পিএম
রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়। প্রবা ফটো
কুষ্টিয়ায় সম্পত্তির লোভে মমতাজ বেগম ওরফে জাগা খাতুন নামে এক নারীকে হত্যার দায়ে তার ছেলেসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
বুধবার (৫ জুন) বিকালে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ রুহুল আমীন আসামিদের উপস্থিতি এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মিরপুর উপজেলার কাটদহ এলাকার মুন্না বাবু, রাব্বি আলামিন, আব্দুল কাদের। এদের মধ্যে মুন্না বাবু নিহত নারীর একমাত্র সন্তান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথির বরাতে তিনি জানান, ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি বিকালে মমতাজ বেগম নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ঘটনার চার দিন পর মমতাজ বেগমের একমাত্র ছেলে মুন্না বাবু মিরপুর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর ২৩ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মুন্না বাবু ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার সঙ্গে চাচা আব্দুল কাদের ও বন্ধু রাব্বি আলামিনও জড়িত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পরে অন্য দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকারোক্তি দেন যে, স্বামীর অবর্তমানে মমতাজ বেগমের কোটি টাকার সম্পত্তি ও পোড়াদহ বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান হাতিয়ে নিতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে পুঁতে রাখেন। পরে আটকদের দেখানো স্থান থেকে মমতাজ বেগমের বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে নিহতের ভাই তোরাব আলী মিরপুর থানায় ওই তিনজনের নামে হত্যা মামলা করেন বলে জানান তিনি।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল মিরপুর থানার তৎকালীন এসআই মো. কায়েশ মিয়া তিনজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।