মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ২৩:১০ পিএম
ফজলে রাব্বী সুইট ও হাসান তবিকুর চৌধুরী (বা থেকে)
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে দুই খালাতো ভাই মুখোমুখি অবস্থানে। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী সুইট ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরী। তারা উভয়ই নির্বাচনে জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। দুই খালাতো ভাইকে ভোট দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভোটার ও আত্মীয়স্বজনরা।
তবে এ নির্বাচনে পরোক্ষভাবে ফজলে রাব্বীর পক্ষে কাজ করছেন এমপি ডিউক ও পৌর মেয়র আহসানুল হক। অপরদিকে তবিকুর চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে কাজ করছেন সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু। স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকদের ধারণা, উপজেলা নির্বাচনে এমপি ও আওয়ামী লীগবিরোধী বিএনপি-জামায়াতের ভোট যেতে পারে হাসান তবিকুর চৌধুরীর পক্ষে। দুই ভাইয়ে সমান শক্তি নিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে। তাই বুধবারের (৫ জুন) বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে দুই ভাইয়ের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যাবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুজনই লড়ছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেজাউল করিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রুবিনা আখতার (ফুটবল), আফরোজা বেগম (কলস) ও লিপি ইয়াসমিন (প্রজাপতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বদরগঞ্জ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২২ হাজার ৭২১ জন আর নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছের আটজন। ১০৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে।
অপরদিকে তারাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ও জাতীয় পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক শাহিনুর ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ২২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬০ হাজার ৪৯৮ জন। আর নারী ৫৮ হাজার ৭২৪ জন। এ উপজেলায় ৫৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য ২ হাজার ১২৬ জন আনসার, কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরে ৬৫০ জন পুলিশ কাজ করবে। এ ছাড়া ৮ প্লাটুন বিজিবি, ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পর্যাপ্তসংখ্যক র্যাবের সদস্য স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বলেন, পুলিশ ও আনসারের উপস্থিতিতে নির্বাচনসামগ্রী নিয়ে প্রিসাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ফিরে যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রার্থী, ভোটারসহ সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা করছি।