নড়াইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ১৮:৩৩ পিএম
২০ মাস বয়সী প্রথম সন্তানকে নিয়ে আসমা খানম। ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলে ভুল অস্ত্রোপচারে আসমা খানম নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জি.এম নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। আসমার ২০ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বাচ্চার সিজার।
গত শনিবার (১ জুন) ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কাকরাইল শাখা থেকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আসমা খানমের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৮ মে নড়াইল শহরের পপুলার সার্জারী এন্ড নার্সিং হাসপাতালে বিতর্কিত ওই অস্ত্রোপচারের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য গত ২৮ মে নড়াইল শহরের পপুলার সার্জারী এন্ড নার্সিং হাসপাতালে ভর্তি হয় আসমা খানমকে। দুপুরে অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তনের জন্ম দেন তিনি। অপারেশন করেন নড়াইল সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জি.এম নুরুজ্জামান। তবে হাসপাতালের বেডে নেওয়ার কিছু সময় পর থেকেই রক্তপাত শুরু হয় ভুক্তভোগী প্রসূতি আসমার।
এ ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ডাক্তার নুরুজ্জামান আবারও রোগীর অপারেশন করেন। দ্বিতীয় অপারেশনের পর রোগীকে বেডে দেওয়া হলেও রক্তপাত আরও বাড়তে থাকে। এক পযার্য়ে অবস্থার অবনতি হলে ৩০ মে বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় আসমা খানমকে। সেখানে চিকিৎসকরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তির পরামর্শ দিলেও তা ফাঁকা না থাকায় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কাকরাইল শাখায় ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে ৩১ মে সকাল থেকে লাইফ সার্পোটে রাখা হয় আসমাকে। সেখানে খরচ বহনে ব্যর্থ হয়ে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার। গত শনিবার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় আসমার।
আসমার বোন হুসনা খানম বলেন, ‘সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জি.এম নুরুজ্জামান আমার বোনের দ্বিতীয় বার অপারেশন করার কথা আমাদের জানাননি। পরে ডাক্তার জানিয়েছেন, রোগীর জরায়ুতে টিউমার ছিল। তাই রক্তপাত বন্ধ করতে অপারেশন করতে হয়েছে। ঢাকার চিকিৎসকরা আমাদের বলেছেন ‘আপনারাতো রোগীকে মেরেই নিয়ে এসেছেন।’
আসমার বাবা আলাল শেখ বলেন, আমার মেয়েকে নড়াইলে ৪ ব্যাগ এবং ঢাকায় ৩০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া লেগেছে। আমরা গরীব মানুষ, কৃষি কাজ করি। ঋণ করে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করেও মেয়েকে বাঁচাতে পারলাম না। ভুল অপারেশনে আমার মেয়ের মত এভাবে যেন আর কোন মেয়ে মারা না যায়। কেউ যাতে এভাবে আর ভোগান্তিতে না পড়ে।
ভুল অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. জি.এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘প্রসূতির অপারেশনে কোথাও ভুল ছিল না। রোগীর অবস্থা একেবারে খারাপ ছিল না। সে হেটে চলে ফিরে বেড়াচ্ছিল। রোগীর স্বজনরাই জোর করে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম পলিন বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নেই। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে, প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।