ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন
বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ১৭:৫১ পিএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪ ২১:৫১ পিএম
মঙ্গলবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কথা বলেন জাহিদ ফারুক। প্রবা ফটো
সরকারের কাছে কি আলাদিনের চেরাগ আছে, যে চাইলেই সব ঠিক করে দেবে বলে প্রশ্ন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি বলেছেন, জনগণের আরও সচেতন হয়ে বেড়িবাঁধ ও নদীর পাড়ে প্রচুর গাছ লাগানো উচিৎ। পানিতে গোল গাছ লাগাতে পারেন তাতেও নদী রক্ষা হবে। যেখানে গাছ আছে সেখানের বেড়িবাঁধ ও নদীর পাড় ভাঙার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জুন) সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী স্পিডবোট যোগে বরগুনার নদী ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখেন ও ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে নদী ভাঙন রোদে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, নদী মাতৃক দেশ বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব না। যারা এই উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করেন তারা অবশ্যই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করে বেঁচে আছেন। তাই আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য সবার উচিত নদীর পাড়ে গাছ লাগানো।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় রেমালের পরে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টার যোগে আপনাদের এলাকা ঘুরে দেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি আপনাদের এলাকায় এসেছি এবং নদী ভাঙন এলাকায় ঘুরে দেখছি খুব শীঘ্রই টেকসই বেড়িবাধ নির্মাণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা সুলতানা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা সুমি, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আব্দুস সালাম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিরা।
৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ডালভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বি এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় নদীর গর্ভে বিলিনের মুখে থাকায় ওই স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে টেকসই বেড়িবাঁধের নির্মাণের আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী রেমালের পানির তোরে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩০টি স্থানে ফাটল ধরেছে। ধসে পড়েছে তিন কিলোমিটার। ঝড়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে এবং বাঁধ উপচে পানি প্রবাহিত হওয়ার ফলে প্রায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সব মানুষের একটাই দাবি ত্রাণ নয় টেকসই বেড়িবাঁধ চাই।