হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ০১:০৯ এএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪ ১৬:৩৪ পিএম
রমজানে খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এরপর ঈদের পর হঠাৎ করেই খাতুনগঞ্জে বেড়ে যায় এলাচের দাম। ঈদের পরপরই দাম বেড়ে বাজারে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয় ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এরপর আরও দাম বেড়ে বিক্রি হয় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায়। মাঝখানে এই দাম কিছুটা কমলেও এখন আবারও ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে এলাচ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নানা কারণে আমদানিকারকরা এলাচ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। চাহিদার তুলানায় কম আমদানি হওয়ায়, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা এলাচের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছেন। যে কারণে এক বছরের ব্যবধানে পাইকারিতে দ্বিগুণ দাম বেড়েছে এলাচের। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলাচের বার্ষিক চাহিদা সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার মেট্রিক টন। যার পুরোটাই আমদানি নির্ভর। কিন্তু আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দুই-তিন বছর ধরেই চাহিদার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম আমদানি হচ্ছে এলাচ। এই কম আমদানির কারণেই এখন দিন দিন অস্থির হয়ে উঠছে এলাচের বাজার।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মে পর্যন্ত চলতি বছরের সাড়ে ৪ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি হয়েছে মাত্র ৮৯৭ মেট্রিক টন। অথচ চাহিদা অনুযায়ী এই সাড়ে চার মাসে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন আমদানি হওয়ার কথা। এই হিসাবে গত সাড়ে চার মাসে চাহিদার চেয়ে কম আমদানি হয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। এর আগের বছরও এলাচ আমদানি কম হয়েছে। ২০২৩ সালে আমদানি হয়েছিল ৪ হাজার ৬৭৭ মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এলাচ আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ১ মেট্রিক টন।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কম আমদানির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ কারসাজি করেই এলাচের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। শেয়ারবাজারের মতো বাজারে এলাচের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে তারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পক্ষের ধারণা, এলাচ যেহেতু চাহিদার চেয়ে কম আমদানি হয়েছে। তাহলে বাজারে এলাচের চাহিদা কমবে না। তাই বাড়তি দামে এলাচ কিনে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এই অসাধু ব্যবসায়ীরা।
মশলা আমদানিকারক আরাফাত রুবাই প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, খাতুনগঞ্জে ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) স্লিপের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনা হয়। এই ডিও স্লিপ যত বেশি হাতবদল হবে ততই ওই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এলাচের ক্ষেত্রে এখন সেটি হচ্ছে, একজনের কাছ থেকে অন্যজন বেশি দামে ডিও কিনছেন। আর তাতে বাজারে এলাচের দাম বেড়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, এলাচের দাম বাড়লেও বাজারে অন্যান্য মশলাজাতীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এসব পণ্যের দাম বাড়লেও সেটি ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত সাড়ে চার মাসে জিরা আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন। ২০২৩ সালে আমদানি হয়েছে ৮ হাজার ৪৭৬ মেট্রিক টন। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ৮১৫ মেট্রিক টন।
গোলমরিচ আমদানি কিছুটা বেড়েছে। গত ১০ মে পর্যন্ত চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে গোলমরিচ আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন। ২০২৩ সালে আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২০২২ সালে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৪৬১ মেট্রিক টন। লবঙ্গ আমদানি বেড়েছে কয়েকগুণ। ২০২৩ সালে সারা বছর যেখানে লবঙ্গ আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন। সেখানে চলতি বছরের এই সাড়ে ৪ মাসেই আমদানি হয়েছে ১ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন। ২০২২ সালে সারা বছর লবঙ্গ আমদানি হয়েছে ৯৩৭ হাজার মেট্রিক টন। বাজারে এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি জিরা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮০ টাকায়। লবঙ্গ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। কালো গোলমরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। দারুচিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকায়।