× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

নড়াইলে গাড়িতে আগুন বাড়িতে ভাঙচুর, শৈলকুপায় আহত ১৫

নড়াইল ও ঝিনাইদহ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ২১:০৯ পিএম

সোমবার ঝিনাইদহের শৈলকুপার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রবা ফটো

সোমবার ঝিনাইদহের শৈলকুপার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রবা ফটো

৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া প্রাইভেটকারে আগুন এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।

রবিবার (২ জুন) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নড়াইল সদরের গোবরা গ্রামে এবং সোমবার (৩ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ ও দুইটি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকের হয়ে কাজ করার কারণে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখের তোপের মুখে পড়তে হয় সিংগাশোপুর ইউনিয়নের গোবরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন গাজীর ছেলে নিউটন গাজী এবং আবুল শেখের ছেলে লিটন শেখকে। বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকির পর গত মাসের ২৫ তারিখ নিউটন গাজী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর এই হামলার ঘটনা ঘটল। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি এ ঘটনায় আনুমানিক ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নিউটন গাজী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের সময় থেকেই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আক্রোশের স্বীকার হই। জিডি করার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সদর থানার ওসি। বরং সাহায্যের জন্য থানায় গেলে উল্টো ধমক দিয়ে খারাপ ব্যাবহার করছেন। আজকের এই ঘটনার জন্য তিনি দায়ী।’

তিনি বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাই আজ প্রাণে মারতে আসবে আমাকে, আমি কয়েক দফায় সদর থানার ওসিকে জানিয়ে সহযোগিতা চাই। তিনি কোন সহযোগিতা করেন নাই বরং আমাকে ধমক দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে আমি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেই, সে বাড়িতেও হামলা চালায় চেয়ারম্যানের লোকজন।’

এবিষয়ে লিটন শেখ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আমাদের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল মাহমুদের ঘোড়া প্রতীকের কাজ করতে বলেছিল উজ্জ্বল শেখ। আমরা পছন্দের আনারস প্রতীকে কাজ করেছি, তিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন। তার ইচ্ছায় কাজ না করার কারণে হুমকি ধামকি ও হামলা করেছে, জিডি করার পরও পুলিশ তো কোন ব্যবস্থা নেয়নি।’

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল শেখ। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তারা বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায় এলাকায়। উল্টো আমার নামে জিডি করছে, রবিবার আমি গিয়েছিলাম থানায়। থানা থেকে বের হয়ে বিকাল ৪টা নাগাদ ঢাকায় চলে আসছি। তবে ঘটনার পর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, এলকার উত্তেজিত জনতা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ স্বরূপ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ঘটনাটি শোনার পর ওই রাতে আমি পরিদর্শন করেছি। ঘটনাটি দুঃখজনক। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। পরবর্তীতে জিডি নেওয়ার পরও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে শৈলকুপার নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর থেকে নিত্যানন্দনপুর ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ বিশ্বাস ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক বিশ্বাসে মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে।

বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফা আরিফ রেজা মন্নুর আব্দুর রশিদ। অন্যদিকে পরাজিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীম হোসেন মোল্যার সমর্থক কোবাদ বিশ্বাস।

আব্দুর রশিদ ও কোবাদের অনুসারীরা ভোটের পর থেকে নানা ঘটনায় বাকবিতণ্ডা আর উত্তেজনা ছড়িয়ে আসছে। এসব উত্তেজনার অংশ হিসাবে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোবাদ ও রশিদ সমর্থকরা ঢাল-সড়কি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দীর্ঘসময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ ব্যক্তি আহত হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ স্থানীয় পুলিশের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে শৈলকুপা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে গ্রামটিতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর পক্ষের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক বিশ্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে বাগুটিয়া গ্রামে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ বিশ্বাস তার সমর্থকদের দিয়ে বাগুটিয়া গ্রামে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ সংঘর্ষ তারই অংশ।

পরাজিত প্রার্থীর সমর্থক মফিজ বিশ্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকের বাগুটিয়া গ্রামের সমর্থকরা তার সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ঘটনায় তার সমর্থকরা বসে বসে হামলার শিকার হতে পারে না। তাই তারা প্রতিরোধ করেছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, নির্বাচন পরবর্তী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাগুটিয়া গ্রামে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বাগুটিয়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৬ জনকে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা