× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সুনামগঞ্জের নদী টইটম্বুর, পানি ঢুকছে হাওরে

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ২০:২৬ পিএম

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪ ২৩:০৬ পিএম

সুনামগঞ্জের নদী টইটম্বুর, পানি ঢুকছে হাওরে

সুনামগঞ্জের সব নদী পাহাড়ি ঢলের পানিতে টইটম্বুর। ছুঁইছুঁই করছে বিপদসীমা। তবে এখনও হাওরের চিত্র ভিন্ন। দুয়েকটি হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করলেও অন্য সব হাওর শুকনো। মাছের বিচরণক্ষেত্র হাওরের এই অবস্থায় শঙ্কিত হাওরপাড়ের মানুষ।

জেলার বৃহৎ মাটিয়ান হাওর ও শনির হাওরে সোমবার (৩ জুন) পর্যন্ত বর্ষার রূপ দেখা যায়নি। এসব হাওরে নৌকা চলাচল শুরু হয়নি এখনও। মাটিয়ান হাওর দিয়ে যাওয়া সাবমারসিবল সড়ক দিয়ে রোববারও যানবাহন চলাচল করেছে। বৌলাই নদীর তাহিরপুর বাজারের উল্টোদিকে মাটির বস্তা দিয়ে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো হয়েছে। এতে মাটিয়ান হাওরে পানি প্রবেশ করছে না। শনির হাওরের ফসলি জমিতে রবিবারও ধানের নিচের অংশ (ঢেঙ্গা) দেখা গেছে। একদিকে ফুলে আছে নদীর পানি, অন্যদিকে হাওর প্রায় খালি।

তাহিরপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মনে করেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কোনো কোনো অংশ নৌ চলাচলের জন্য কেটে দিতে হবে। না হলে ১০ কিলোমিটারের নৌপথ ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে। তাহিরপুর থেকে মধ্যনগর যেতে বহুপথ ঘুরে সোমবারও যেতে হয়েছে। অথচ বাঁধের কিছু অংশ কেটে দিলে অর্ধেকেরও কম সময়ে তাহিরপুর থেকে মধ্যনগর যাওয়া সম্ভব।

মৎস্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পানি যে বছর বিলম্বে এসেছে, হাওরে মাছের উৎপাদনও ওই বছর কমেছে। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামছুল আলম জানান, গেল পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২১ ও ২০২৩ সালে এক মাসেরও বেশি বিলম্বে এসেছিল পানি। এ কারণে জেলায় ২০২১ সালে মাছ উৎপাদন কমে হয়েছিল ৩৫ হাজার টন, একই কারণে ২০২৩ সালে সবচেয়ে কম ৩৪ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। অন্যদিকে ২০২২ সালে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে জেলার সব হাওর পানিতে ভেসে যাওয়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে ওই বছরই সবচেয়ে বেশি ৩৮ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছিল। এবারও নির্ধারিত সময়ের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও হাওরে জলজ প্রাণী বিচরণেরই সুযোগ পাচ্ছে না। প্রজননের জন্যও পানি পাচ্ছে না মাছ। 

জামালগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল হাসান বললেন, হাওরে পর্যাপ্ত পানি না আসায় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের স্রোতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন হয়। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পানি না আসায় মাছের প্রজনন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে হাওরে মাছের অভাব দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া পানির সঙ্গে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনটি উপাদান মিলেই মাছের বংশবৃদ্ধি হয়। ব্যাঙ, কুঁচে, বিষহীন সাপ, কচ্ছপজাতীয় প্রাণীর জন্যও সময়মতো পানি প্রয়োজন হয়।

তবে রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নদ-নদী উপচে পড়তে শুরু করেছে। সোমবার ভোর থেকে শক্তিয়ারখলা ১০০ মিটার সড়কটি পানির নিচে যেতে শুরু করেছে। এ রাস্তায় চলাচলকারী পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের হোসাইন আহমদ নামে একজন কর্মকর্তা বলেন, তিনি জরুরি কাজে তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মোটরসাইকেল নিয়ে। রাস্তাটিতে ইতোমধ্যেই পানি উঠতে শুরু করেছে। তিনি অনেক কষ্ট করে রাস্তাটি পাড়ি দিয়েছেন বলে জানান। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা