প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪ ১২:০০ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার চিন্তামন-আটপুকুরহাট সড়কের জাংগালায় সেতুর কাজ শেষ হয়নি তিন বছরেও। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার চিন্তামন-আটপুকুরহাট সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৫ গ্রামের ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ চলাচল করে। এই সড়কের জাংগাল নামক স্থানে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন একটি সেতুর কাজ চলছে। নতুন সেতুর বরাদ্দ হলে ২০২১ সালের মার্চে ওই স্থানে থাকা পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। এতেই দুর্ভোগ শুরু। ১ বছর ৮ মাস পর নতুন সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩ বছর ২ মাসেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। এখনও নতুন সেতুর এক-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরও সময় চেয়ে আবেদন করেছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের চিন্তামন-আটপুকুর সড়কে জাংগাল নামক স্থানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো (এলজিইডি) রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (আরডিআরআইআইপি-২)-এর আওতায় ২ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সংযোগ সড়কসহ ২৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের ৩ মার্চ দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। কাজের মেয়াদকাল ছিল ১ বছর ৮ মাস। ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর নির্মাণকাজ শেষ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা। তবে বিভিন্ন টালবাহানায় কাজের মেয়াদ পেরিয়ে ১৮ মাস হয়ে গেলেও নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি নেই। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন যন্ত্রপাতি ফেলে কয়েক দফায় লাপাত্তা হয়ে যায়। বর্তমানে পুনরায় সেতুর কাজ শুরু হলেও কাজের গতি একেবারে ধীর বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
কাজিহাল ইউপি চেয়ারম্যান মানিক রতন বলেন, এই সেতুটি তৈরি করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১ বছর ৮ মাসের কাজ ৩ বছর সময় নেওয়ায় খুবই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়কে চলাচলকারীদের। বহুবার এলজিইডি অফিসে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এই দুর্ভোগ।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের ম্যানেজার জয়নাল আবেদিন বলেন, সেতুটি নির্মাণ করতে ২২টি পাইলিং করতে হয়েছে। সেখানে মাটির সমস্যার কারণে পাইলিং করতে সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন, কাজ অনেকটাই হয়েছে। প্রথমে মাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। গার্ডারের কাজ হয়েছে। এখন দুই সাইডের ঢালাই, শাটারিংয়ের কাজ শুরু হবে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। এক মাসের মধ্যে সেতু দিয়ে লোক যাতায়াত করতে পারবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুর কাজ ২০১৮ সালের বাজারমূল্যের। বর্তমানে সব ধরনের মালামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই সমস্যা হয়েছে। বর্তমানে সেতুর ৬৪ ভাগ কাজ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেলা এলজিইডি অফিসে সময় চেয়ে আবেদন করেছে বলে জেনেছি। কিন্তু আমি এখনও কোনো অনুমতিপত্র হাতে পাইনি। ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে, দ্রুত কাজটি শেষ করতে।
ইউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, খবর নিয়েছি, কাজ শুরু করেছে। বিলম্ব হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে সার্বক্ষণিক খোঁজ নিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ঠিকাদার বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। উপজেলায় সে আবেদনের কপি পাঠানো হয়েছে।