× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১৫ মিনিটের ঝড়ে ‘লন্ডভন্ড’ বালিয়াডাঙ্গী, ৩ জনের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১৮:০৬ পিএম

আপডেট : ০২ জুন ২০২৪ ০০:৩৪ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মাত্র ১৫ মিনিটের ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রবা ফটো

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মাত্র ১৫ মিনিটের ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রবা ফটো

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মাত্র ১৫ মিনিটের ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামের পইনুল ইসলামের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪০), একই গ্রামের দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৫০) এবং উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলামের আড়াই বছরের ছেলে নাঈম।

ঝড়ে দুই ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা বাড়িঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক পরিবার।

নিহত ফরিদা বেগমের স্বামী পইনুল ইসলাম বলেন, সকালে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় ঝড় শুরু হয়। বাড়িতে ছুটে এসে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। পরে বারান্দায় পড়া টিন ও ছাউনি সরিয়ে দেখি নিচে চাপা পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, ঝড়ের সময় একই গ্রামের দবিরুল ইসলামের স্ত্রী জাহেদা তাদের ঘরের বারান্দায় মারা যান। দবিরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ঝড়ের সময় ভয়ে তিনি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করছেন বলে আমরা ধারণা করছি।

একই সময়ে হওয়া ঝড়ের পর উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর নয়াপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের গর্তে জমা বৃষ্টির পানিতে পড়ে নাইম নামে এক শিশু মারা যায়। নাইমের বাবা নাজমুল ইসলাম জানান, খেলতে গিয়ে তার ছেলে গর্তে পড়ে যায় এবং সেখানে ডুবে সে মারা যায়।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাড়িয়া ইউনিয়নের তিলকড়া, শালডাঙ্গা, বঙ্গভিটা, লোহাড়া, বামুনিয়াসহ ১২টি গ্রাম, বড়বাড়ী ইউনিয়নের বেলহাড়া, বেলবাড়ী, বটের হাট, হরিপুরসহ আটটি গ্রাম ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ কাঁচা বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। গাছ ভেঙে পড়েছে ঘরের ওপর। ঝড়ের পর থেকে এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

বড়বাড়ী ইউনিয়নের আধারদীঘি বাজারে পাঁচটি দোকান ও দুটি হোটেলের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। ঘরের টিন নষ্টসহ সার, কীটনাশক ও সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আধারদীঘি বাজারের ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, বাজারে শতবর্ষী কিছু আমগাছ ছিল। ১৫ মিনিটের ঝড়ে সেই গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়েছে দোকানের ওপর। এতে দোকানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

লোহাগাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, ঝড়ে তাদের স্কুলের হল রুমের টিনের ছাউনি মাঠে এসে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর বিদ্যালয়টির প্রবেশ দ্বারে গাছ ভেঙে পড়েছে।

এদিকে বড়বাড়ী ইউনিয়নের আধারদীঘি থেকে হরিণমারী যাওয়ার রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল বন্ধ আছে। কয়েকজনকে গাছ কেটে সরিয়ে রাস্তা স্বাভাবিক করতে দেখা গেছে।

দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, আজ ভোরে ১৫/২০ মিনিটের ঝড়ে আমরা ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই। অনেক রাস্তায় গাছ পড়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক দোকানে গাছ পড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বালিয়াডাঙ্গী জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে ৪০টিরও বেশি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে গেছে। অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। বালিয়াডাঙ্গী বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি সব এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ। সকাল থেকে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, ঝড়ে মরিচ, বোরো ধান, পটোলসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির বলেন, সকালে ১৫ মিনিটের ঝড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফছানা কাওছার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান এবং আমাদের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণে কাজ করছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা