কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১৬:৩৫ পিএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের সংবাদ সম্মেলন। প্রবা ফটো
ভারতে হত্যার শিকার ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে নিয়ে নানা মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের দাবি– যেহেতু এমপির মরদেহ বা খুনের কোনো আলামত উদ্ধার হয়নি, এমন পরিস্থিতিতে তদন্তপূর্বক তথ্য প্রকাশ করে জনমনের বিভ্রান্তি দূর করতে হবে। তার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর প্রমাণ প্রকাশ করা এবং এমপিকে নিয়ে অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আয়োজিত এমপি আনার ‘নিখোঁজ থাকলে সন্ধান চাই, হত্যা হলে লাশ ও আলামত’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি সামনে এসেছে। শনিবার (০১ জুন) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ স্কুল মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সবার পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাসেল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহজনাজ পারভীনসহ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য এবং পৌর কাউন্সিলররা।
জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু বলেন, ‘ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এখানে একত্রিত হয়েছি, যখন পুরো কালীগঞ্জবাসী শোকে মূহ্যমান। কালীগঞ্জবাসীর নেতা সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার আমাদের মাঝে অনুপস্থিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রশাসনের সব পর্যায় থেকে এমপি আনারের নিখোঁজ বা হত্যার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আছে আমাদের। তবে আমরা প্রতিনিয়ত জনগণের নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছি। কিন্তু কোনো সদুত্তর আমাদের কাছে নেই। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রত্যাশায় কিছু দাবি তুলে ধরছি।’
এমপি আনার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্তপূর্বক তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমপি আনার টানা তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি পৌরসভার কমিশনার ও উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমপি আনার একজন জনপ্রিয় নেতা। এমন একজন জননেতা নিখোঁজ বা হত্যার শিকার হতে পারে– আমরা মেনে নিতে পারছি না। এ সংবাদ সম্মেলন থেকে তার ব্যবহৃত পাসপোর্ট, ঘড়ি, আংটি, চশমাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র এবং কথিত রক্তমাখা পোশাক উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি। এমপির ব্যবহৃত ফোনগুলোর সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে দফাওয়ারী তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বিভিন্ন সময় হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এমতাবস্থায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তপূর্বক সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। খুনি জিহাদ মুম্বাইয়ে কবে থেকে কার অধীনে কসাই ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ এবং খুনিরা হত্যাকাণ্ডে যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার তথ্য এবং সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’
আনারের বিরুদ্ধে মাদক, হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, এসব অভিযোগের কী প্রমাণ আছে– প্রকাশের দাবি তুলে জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু আরও বলেন, ‘২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলা ছাড়া এমপি আনারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। অথচ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। যা অত্যান্ত দুঃখজনক ও বেদনার। জনপ্রিয় একজন এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রচারের দাবি জানাচ্ছি। গত ১৭ বছরে তার বিরুদ্ধে কথিত মাদক, হুন্ডি ও সোনা চোরাচালানের কোনো মামলার প্রমাণ থাকলে তার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। হত্যাকাণ্ড সর্মথন করে এবং সংসদ সদস্যের চরিত্র হননের উদ্দেশে সামাজিকমাধ্যমে একটি গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এমপির ব্যবহৃত ফোন থেকে যারা বিভিন্ন জনের কাছে ক্ষুদেবার্তা ও কল দিয়েছে, তাদের পরিচয় উদ্ঘাটন করতে হবে।’
গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। ১৩ মে তিনি কলকাতায় খুন হয়েছেন বলে ২০ মে নিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পুলিশ।