চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৪ ১৮:৪৫ পিএম
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে পতেঙ্গা র্যাব-৭ এর এলিট হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এক নারী জলদস্যু। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামে র্যাবের মধ্যস্থতায় ১৯টি জলদস্যু গ্রুপের ৫০ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে নগরের পতেঙ্গা র্যাব-৭ এর এলিট হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
এ সময় ৯০টি দেশি বিদেশি অস্ত্র ও ২৮৩ রাউন্ড বারুদ জমা দেয় জলদস্যুরা।
এ জলদস্যুরা চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলে দস্যুতার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
আত্মসমর্পণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি পেতে সহযোগিতা করবে সরকার। পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ক্ষেত্রেও তারা সরকারের সহযোগিতা পাবে। তবে হত্যা ও ধর্ষণ মামলার অভিযোগ থাকলে তাদের ক্ষেত্রে এ প্রতিশ্রুতি কার্যকর হবে না।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একজন নারী জলদস্যুও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা কখনও অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হয়ে বাধ্য হয়েই এসব কাজে জড়িয়ে থাকেন। স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরাও তাদের বাধ্য করেন এসব কাজে জড়াতে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ও খুনের মামলা আছে তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করা হবে না। অন্য মামলাগুলো থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কাজ করা হবে।’
র্যাবের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কাছে র্যাব আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। সুন্দরবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় ২০১২ সালে র্যাবকে টাস্ক ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের দুঃসাহসিক অভিযানে সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করেন। তারা যাতে আর সে কাজে ফিরতে না পারে সেজন্য তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কেউ ব্যবসা করছে বা অন্য কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে র্যাব একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। পাবনাতে ৬০০ ও সিরাজগঞ্জে ৩০০ এর অধিক চরমপন্থি গ্রুপের নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদেরও সরকার সহযোগিতা করেছে। সুন্দরবনে জলদস্যুদের ভালো অবস্থা দেখে আজ তারা উদ্বুদ্ধ। সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। আর যারা ফিরে আসেন নাই, আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যেকোনো মূল্য অপরাধীদের দমন করব। তারা যেন অপরাধ করার চিন্তাও না করে সে কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে।’
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো.শরীফ-উল-আলম জানান, ৫০ জনের মধ্যে ৩ জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জলদস্যুরা ৩৫টি একনলা বন্দুক, ১৮টি এসবিবিএল, ১৭টি ওয়ান শুটার গান, একটি করে দুইনলা বন্দুক, পিস্তল, রিভলভার, এসএমজি, তিনটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি এয়ারগানসহ মোট ৯০টি অস্ত্র ও চারটি ওয়াকিটকি জমা দিয়েছে। এ ছাড়াও গুলি ও কার্তুজ জমা দিয়েছে ২৮৩ রাউন্ড।
এর আগেও র্যাবের মধ্যস্থতায় ২০১৮ ও ২০২০ সালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের ৭৭ জন জলদস্যুর সফল আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই ঘটনা অন্যান্য জলদস্যুদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদের দস্যু জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আশার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। পরে বাঁশখালী এলাকা থেকে তাদের র্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের সবাইকে এখন বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে সেখানে একটি মামলা হবে।’
তবে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের মামলা হবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব কর্মকর্তা মো. শরীফ-উল-আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। মামলার এজহার পেলে বলতে পারব।’
কী আইনে মামলা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জলদস্যুদের নিয়ে র্যাব কর্মকর্তারা থানার পথে আছেন। এখনও এজহার হাতে পাইনি। তবে যেহেতু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে সেহেতু অস্ত্র আইনেই মামলা হওয়ার কথা।’