× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

২ প্রকল্পে কাটবে ৪ উপজেলার বিপদ

সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৪ ১১:২৭ এএম

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪ ১৬:২৫ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভারী বর্ষণে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। প্রবা ফটো

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভারী বর্ষণে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। প্রবা ফটো

জলোচ্ছ্বাস কিংবা বিরূপ আবহাওয়া হলেই চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলাগুলোর লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করে। সেই মৃত্যুঝুঁকিকে বিপদমুক্ত করতে এক হাজার ৮ কোটি টাকার পৃথক দুই প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা বাঁশখালী, আনোয়ারা, বোয়ালখালী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাগর ও নদী তীরবর্তী প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এই দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। 

পৃথক এই দুটি প্রকল্পের অধীনে বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় ১২ দশমিক ৬৮৫ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা এবং ১২ দশমিক ৫৯৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, ঢাল সংরক্ষণ ও নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। এ ছাড়াও বোয়ালখালী ও রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনভুক্ত কর্ণফুলী নদী এবং সংযুক্ত খালসহ মোট ৬ দশমিক ৪৭০ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাঁশখালী-আনোয়ারা টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় নেওয়া এক হাজার ৮ কোটি টাকার পৃথক দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পৃথক দুটি প্রকল্পের মধ্যে বোয়ালখালী ও রাঙ্গুনিয়া অংশের প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ১৩৪ কোটি এবং ৮৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলায় স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, ঢাল সংরক্ষণ ও নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। আনোয়ারা ও বাঁশখালীর এই প্রকল্পের মধ্যে প্রায় পৌনে ৬০০ কোটি টাকার কাজ হবে বাঁশখালীতে। বাকি কাজ হবে আনোয়ারা উপকূলে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য অর্থ প্রতিমন্ত্রী ও বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। প্রকল্পটি উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে লবণ, মৎস্য ও কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা উপজেলায় পাঁচ দশমিক ১৭৫ কিলোমিটার ও বাঁশখালী উপজেলায় সাত দশমিক ৫১০ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা কাজ করা হবে। এ ছাড়াও বাঁশখালীতে ১১ দশমিক ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ এবং আনোয়ারায় ১ দশমিক ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাঁশখালীর পুকুরিয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ, আনোয়ারার জুঁইদন্ডী ইউনিয়নের সাঙ্গু নদী সংলগ্ন এলাকাসমূহ নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে। 

পাউবো বাঁশখালীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের করাল গ্রাস থেকে লাখ লাখ মানুষ মুক্তি পাবে। বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, ছনুয়া, আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকাসমূহ জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে রক্ষা পাবে। প্রকল্প এলাকায় কৃষি নিবিড়তা বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধন, লবণ চাষের ক্ষেত্র বৃদ্ধি হবে। এ ছাড়াও পর্যটন খাতের বিকাশ, জীববৈচিত্র্যের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন হবে। 

এদিকে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কর্ণফুলী নদী এবং সংযুক্ত খালসমূহের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বোয়ালখালী ও রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসনের কধুরখীল, চরণদ্বীপ, শ্রীপুর খরণদ্বীপ, শাকপুরা, গোমদন্ডী ইউনিয়নের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাহাড়ি খরস্রোতা কর্ণফুলী নদী, বোয়ালখালী খাল, রাইখালী খাল, ছন্দরীয় খাল, ভারাম্বা খাল, নাজিরখালী খালের ভাঙন হতে রক্ষা পাবে। 

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (রাঙামাটি বিভাগ) তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কর্ণফুলী নদীর বাম পাড় ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি খালের ভাঙন রোধে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী নদীর বাম তীরবর্তী চট্টগ্রাম-বোয়ালখালী সংযোগ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে তীর সংরক্ষণ করা হবে। ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা হবে। এ ছাড়াও কর্ণফুলী নদী এবং এর সংযুক্ত খালসমূহের তীর সংরক্ষণ কাজের মাধ্যমে বাস্তুসংস্থানগত বৈচিত্র্য রক্ষা, নদী তীরবর্তী ভাঙনকবলিত স্থান রক্ষার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা