রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৪ ১৩:১৮ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৪ ১৩:৩৯ পিএম
পবা উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের বুথে সিল দেওয়া ব্যালটের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক ফারদিন। ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীর পবায় অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের বুথ থেকে সিল দেওয়া ব্যালট পেপার নিয়ে সেলফি তুলে সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা। এতে তিনি লেখেন, ‘আমরা বাপের ভূমিকা পালন করছি।’
এই ঘটনার পর প্রশাসন তাকে চিহ্নিত করতে তৎপরতা শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ এবং ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম ওমর ফারুক ফারদিন। তিনি রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য। তার বাড়ি পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামে।
এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ওমর ফারুক তার ফেসবুক থেকে ছবিসহ পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এলাকায় শ্বশুর দায়িত্বে। আমরা বাপের ভূমিকা পালন করছি। আল্লাহ ভরসা।’
বুধবার (২৯ মে) সকালে তিনি নিজ এলাকা কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান। সকাল ৯টার পর তিনি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন মোবাইল নিয়ে এবং ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার পর তিনি ব্যালট পেপারসহ সেলফি তোলেন। সেখানে দেখা যায় তিনি আনারস প্রতীকে সিল দিয়েছেন। পরবর্তীতে সেই ছবিটি তিনি তার নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে ওমর ফারুকের মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পবা উপজেলার সহকারী রিটারনিং কর্মকর্তা ও ইউএন আবু সালেহ মো. হাসনাত বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবাই অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তের কাজ করছে। তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
তৃতীয় ধাপে রাজশাহী জেলার দুই উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভোট
রাজশাহী জেলায় তৃতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পবা ও মোহনপুর এ দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৪ লাখ ৬ হাজার ৩৭৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮ জন।
দুই উপজেলায় ১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৩৩ জন। এর মধ্যে পবা উপজেলায় মোট ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬ জন এবং মোহনপুর উপজেলায় মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫ জন।
পবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ওয়াজেদ আলী খাঁন মোটরসাইকেল প্রতীকে, ফারুক হোসেন ডাবলু আনারস, এমদাদুল হক এমদাদ ঘোড়া, সাইফুল বারী ভুলু কাপ-পিরিচ, আব্দুর রশিদ দোয়াত-কলম এবং ডেভিড রিচার্ড মুর্মু হেলিকপ্টার প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে মোহনপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এনামুল হক ঘোড়া প্রতীকে, আল-মোমিন শাহ গাবরু কাপ-পিরিচ, আলমগীর মূর্শেদ রঞ্জু মোটরসাইকেল, মেহেবুব হাসান রাসেল দোয়াত-কলম এবং আফজাল হোসেন বকুল আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজশাহী জেলা নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, পবা উপজেলার ৮৪টি ভোটকেন্দ্রে মোট বুথের সংখ্যা ৬২৬টি। এ উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৯০৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৯ জন। এ ছাড়া ৩ জন হিজড়া ভোটার রয়েছে। অন্যদিকে মোহনপুর উপজেলায় ৪৫টি কেন্দ্রের ৩৪৬ টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ উপজেলাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪৩ জন মোট ভোটারের মধ্যে ৭২ হাজার ৭০৪ জন পুরুষ এবং ৭২ হাজার ৮৩৯ জন মহিলা ভোটার রয়েছে।
তৃতীয় ধাপে দুটি উপজেলা নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৯টি। যেখানে ভোটকক্ষের সংখ্যা থাকবে ৯৭২টি। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য পুলিশ, বিজিও, র্যাব, আনসার সদস্যসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।