বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৪ ১৮:২৮ পিএম
আপডেট : ২৮ মে ২০২৪ ১৯:৩২ পিএম
চালকদের মারধরের ও হাতকড়া পরানোর অভিযোগ তুলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকরা। মঙ্গলবার (২৮ মে) সকাল থেকে চলা এ ধর্মঘটে তারা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। তবে এই ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগী ও স্বজনরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সচালকরা ধর্মঘট ডাকায় লাশ নিয়ে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে অনেককেই। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার বাইরে স্থানান্তর করা রোগীদের নিয়েও বিপাকে পড়েছে তারা৷ অনেকে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অটোরিকশায় ও ইজিবাইক চড়ে রোগীদের নিয়ে আসা-যাওয়া করছে।
হাসপাতালের সামনে থাকা স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালকরা জানান, শজিমেক হাসপাতালে প্রায় ৪০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী ও মরদেহ পরিবহন করে থাকে। হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং থাকায় শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চালকদের মারধর ও গাড়ির লুকিং গ্লাস ভেঙে দেয়। সর্বশেষ সোমবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগী নামিয়ে দিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক ও তার সহকারীকে মারধর করে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রাখা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে ট্রাফিক আইনে ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়ে তাদের ছাড়া মেলে।
বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি শজিমেক হাসপাতাল শাখার সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা রোগী পরিবহনের জরুরি সেবায় কাজ করে থাকি। আমাদের কেন মারধর ও হেনস্থা করা হবে? একজন হাসপাতালের পরিচালক আমাদের কেন মারধর করে হতকড়া পরিয়ে পুলিশের হাতে দেবেন? আমরা তো দাগি আসামি নই। এর প্রতিবাদে আমরা তিন দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধর্মঘটে নেমেছি।’
তিন দফাগুলো হলো- হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে অ্যাম্বুলেন্সচালকদের রোগী পরিবহনের সুবিধা দেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে বৈধ অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের সুবিধা দেওয়া এবং অ্যাম্বুলেন্সচালকদের মারধরের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সচালকদের হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জটলা পাকানোর সুযোগ নেই। এ ছাড়াও তারা রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে৷ গতকাল কাউকে মারধর ও আটকের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকায় পুলিশ ট্রাফিক আইনে জরিমানা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের বাইরের অ্যাম্বুলেন্সগুলো না চললেও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।’