× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিন পার্বত্য জেলা

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ২২:৫৬ পিএম

পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশের সব বিভাগে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে পার্বত্য জেলাসমূহে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের বিষয়ে সতর্ক করতে মাইকিং শুরু হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধস হয় বেশি বৃষ্টি হলে। ২০১৭ সালের ১২ থেকে ১৩ জুন পার্বত্য তিন জেলাসহ ছয় জেলায় পাহাড় ধসে ১৬৮ জন নিহত হয়। ১৩ জুন শুধু রাঙামাটিতেই নিহত হয় ১২০ জন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে পাহাড় ধসে এত প্রাণহানির ঘটনা আগে ঘটেনি। তিন পার্বত্য জেলা থেকে আমাদের প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর…

খাগড়াছড়ি : ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পরিবার। ইতোমধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাহাড় ধসে যাতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয় সেজন্য কাজ করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জেলার সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লটিলা, কলাবাগানসহ শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব জায়গায় ধসের আশঙ্কা করছে প্রশাসনও। পাহাড় ধসের আতঙ্ক নিয়ে স্থানীয়রা বসবাস করছে। 

শালবন এলাকার বাসিন্দা মোতালেব, আবু হানিফ, মহিউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন জানান, টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশকিছু এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে গেছে। আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে রাতের বেলায় ভয়ে ঘুম আসে না। 

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান জানান, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-মারিশ্যা ও মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়কে পাহাড়ধস মোকাবিলায় কাজ করছে সড়ক বিভাগ। পাহাড় ধসে যাতে যানচলাচল বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ কবলিতদের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০০ আশ্রয়কেন্দ্র।

বান্দরবান : সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে বান্দরবানে বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আবার কখনও মাঝারি ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। বিকালে পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা শহরের বনরুপা, লাঙ্গি পাড়া, কালাঘাটা, বালাঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন অধিকাংশ মানুষ। ফলে ঘূর্ণিঝড় কিংবা অতিবৃষ্টির প্রভাবে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর বান্দরবান জেলায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১০ জন। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত বাসিন্দাদের বার বার সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বান্দরবানে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলার ৭ উপজেলায় ২১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও শুকনা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক টিমের কুইক রেসপন্সসহ টিম প্রস্তুত রয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিমও। 

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র সামসুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠে কাজ করছি। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

রাঙামাটি : ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে রাঙামাটিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

২০১৭ সালে ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ১২০ জন নিহত হয়। প্রতিবছর ভয়াল স্মৃতির দিনটি ফিরে এলেও থামেনি পাহাড়ের পাদদেশে মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস। বরং আরও বেড়েছে নতুন করে বসতি স্থাপন। গত রবিবার থেকে রাঙামাটিতে হালকা ও মাঝারি আকারে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৭২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যাকে ভারী বর্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। এ বৃষ্টিপাত আরও দুয়েক দিন থাকতে পারে। ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষতি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়াও ৩৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় কনট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ, আনসার, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন দপ্তরসমূহকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা