পঞ্চগড় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ২২:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৭ মে ২০২৪ ২২:৫৩ পিএম
সাগর আলী। প্রবা ফটো
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রশাসনের লোক পরিচয়ে সাগর আলী নামে এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পরে তার সন্ধান মিলেছে। সাগরকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ঢাকায় পুলিশের একটি ইউনিটের হেফাজতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৭ মে) বিকালে সাগরকে একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালতে তোলা হয়েছে। পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরির পর থেকে সাগরের সন্ধানে আমরা কাজ শুরু করি। একপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সাগর বড় ধরনের একটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশের একটি ইউনিট তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জেনেছি। তবে সাগর বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের আমরা জানিয়েছি।’
সোমবার বিকালে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা এলাকার হোটেল ধানসিঁড়ি ইন্টারন্যাশনালে (আবাসিক) নিখোঁজ সাগরের বাবা মহসীন আলীকে ডেকে নিয়ে জানিয়েছেন, সাগর বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং নিরাপদে রয়েছেন। নিখোঁজ সাগরের ছোট বোন মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘সোমবার বিকালে তেঁতুলিয়া থানা পুলিশ আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে জানিয়েছে ভাইয়া নাকি তাদের কাছে আছে, নিরাপদে আছে। আমরা যেন কোনো টেনশন না করি। তবে আমার ভাইয়ের কী অপরাধ আর কেনইবা তাকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ, এসব কিছু আমাদের জানায়নি।’
গত শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকার শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে সাগরকে ডেকে নিয়ে সাদা একটি মাইক্রোবাসের কাছে নিয়ে যায় সাদা পোশাকে পুলিশের একটি দল। এ সময় সাগরকে জানানো হয়, কিছু তথ্য জিজ্ঞাসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। একপর্যায়ে সাগরকে সাদা ওই মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতেই সাগরের বাবা তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নিখোঁজ) দায়ের করেন।
নিখোঁজ সাগরের বাড়ি উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের বাংলাবান্ধা বাজার এলাকায়। তিনি ওই এলাকার মহসীন আলীর ছেলে। সাগর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে শ্যামলী পরিবহনের একটি টিকিট কাউন্টারে বুকিং সহকারীর কাজ করতেন। তার নয় মাস বয়সি একটি ছেলে আছে। দুই ভাইবোনের মধ্যে সাগর বড়।