× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রেমালের তাণ্ডবে সৈকতপাড়ের শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

কক্সবাজার অফিস

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ১৯:০২ পিএম

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪ ১৯:২৭ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে কক্সবাজার সৈকতপাড়ের শতাধিক দোকান ভেঙে গেছে। প্রবা ফটো

ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে কক্সবাজার সৈকতপাড়ের শতাধিক দোকান ভেঙে গেছে। প্রবা ফটো

ঘূর্ণিঝড় রেমাল কক্সবাজারে তেমন কোনো ক্ষয়-ক্ষতি করতে না পারলেও বিপদসংকেত নামানোর পর পরবর্তীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। ৯ নম্বর মহাবিপদসংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর পর পরই কক্সবাজারে শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। যে ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে সৈকতপাড়ের শতাধিক দোকানপাট। আগ্রাসী সাগরের ভয়ংকর ঢেউয়ে উপড়ে গেছে ঝাউগাছ।

গতকাল রবিবার রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণ  আজ সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত অব্যাহত আছে। থেমে থেমে চলা এ ভারী বর্ষণের সঙ্গে ঝোড়ো হওয়া ও বজ্রপাত হয়। 

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতে উড়ছে বালু। অনেক সময় ঝোড়ো বাতাসে উপড়ে পড়ছে গাছপালা। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেওয়া ৯ নম্বর মহাবিপদসংকেত নামানোর ঠিক পরপরই শুরু হয় এ তাণ্ডব। ঝোড়ো বাতাসে উড়ে গেছে সৈকতপাড়ের দোকানপাট। শুধু একটি দুটি পয়েন্টে নয়, সৈকতের ৫টি পয়েন্টের শতাধিক দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় তুমুল বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাস উপেক্ষা করে দোকান রক্ষার চেষ্টা করছেন অনেকে।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টের চায়ের দোকানি তুহিন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় কক্সবাজার অতিক্রম করার পর এভাবে তুমুল বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাস আগে কোনোদিন দেখিনি। এই প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব স্বচক্ষে দেখলাম। আমার দোকানের ছাউনি বাতাসে উড়ে গেছে আর পানির বোতল থেকে শুরু করে চিপসের প্যাকেট উড়ে কোথায় গেছে জানি না।’

চটপটির দোকানদার আমান উল্লাহ বলেন, ‘লাবণী পয়েন্টের ১০টি দোকানের ছাউনি থেকে শুরু মালামাল উড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বাকি যা আছে তা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।’

শামুক-ঝিনুকের ব্যবসায়ী আবু বলেন, ‘ত্রিপল দিয়ে মালামাল রশি দিয়ে বেঁধে ছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি আর ঝোড়ো বাতাসে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে।’

সোমবার বেলা ১১টার পরপরই শুরু হয় জোয়ার। প্রবাহিত হয় সর্বোচ্চ উচ্চতায়। তাণ্ডব শুরু করে উপকূলের ঝাউবনে। উপড়ে ফেলে বেশকিছু বৃক্ষ। ভয়ংকর ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ।

এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেপরোয়া পর্যটকদের সামলাতে হিমশিম খায় কর্তৃপক্ষ। ভয়ংকর ঢেউয়ের মাঝেও সমুদ্রস্নানে নামছেন অনেকে। মাইকিং করেও কোনোভাবে সরানো যাচ্ছে না তাদের। শেষমেষ ভয়ংকর ঢেউ থেকে পর্যটকদের জীবন রক্ষায় লাঠি হাতে তুলে নেন বিচ কর্মীরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুদ রানা বলেন, গত দুদিন ধরে পর্যটকদের কাছে অনুরোধের শেষ রাখিনি। বার বার হাতে পায়ে অনুরোধ করেছি, সমুদ্রস্নান থেকে বিরত থাকুন, পানি থেকে উঠে যান। কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ সীমার মাঝেও সমুদ্রস্নানে পর্যটকরা নামছেন। এই মুহূর্তে তাদের জীবন রক্ষায় আমাদের শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া কিছু বাকি ছিল না। তারপরও বার বার অনুরোধ করছি, কিন্তু কোনো কিছুই মানতে চান না এই ভ্রমণপিপাসুরা।’

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপসহকারী আবহাওয়াবিদ তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে ৯৩ মিলিমিটার। আগামী আরও ২/৩ একই ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। সাগরের পানি স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে এখনও ২ ফুট উচ্চতা বেড়ে রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে।

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের ৩০ গ্রাম প্লাবিত

বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের অন্তত ৩০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, মোস্তাকপাড়া, ফদনার ডেইল, নুনিয়ারছড়া, মহেশখালী উপজেলার ধলাঘাটা ও মাতারবাড়ী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব উপকূলের লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। যাদের রান্না করা খাবার বিতরণ করছে প্রশাসন।

এদিকে, ভূমিধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। 

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান জানিয়েছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন। সহজে নিরাপদে আশ্রয় না নিলে জোরপূর্বক সরানো হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা