× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রামে ভোগান্তি

‘জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের টাকা কি নিজেদের পকেটে ভরেছে’

সুবল বড়ুয়া

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ১৬:০৯ পিএম

আপডেট : ২৭ মে ২০২৪ ১৭:৪৪ পিএম

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। প্রবা ফটো

চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সড়ক। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। প্রবা ফটো

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ঝরেছে। সোমবার (২৭ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ২৩৮ দশমিক ০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। আর এই বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা এমএইচএম মোসাদ্দেক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে সোমবার সকাল ছয়টা থেকে ৯টা পর্যন্ত। এই তিন ঘণ্টায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী দুয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত হবে। এতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসেরও শঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গলিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগরীর মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, পশ্চিম খুলশী মুরাদপুর, জিইসি, মেহেদীবাগ, ফরিদার পাড়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, শুলকবহর, ষোলশহর, মোগলটুলী, চান্দগাঁও, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, বাকলিয়া ডিসি রোড, তালতলা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে চকবাজার এলাকায় মোহাম্মদ হাসান নামে এক পথচারীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি তখন বাকলিয়া এলাকা থেকে হাঁটুর ওপর পানিতে হেঁটে হেঁটে চকবাজারের দিকে আসছিলেন। হাতে ছাতা থাকলেও গায়ের কাপড় ও প্যান্ট ভেজা দেখা যায়। ওইদিকে পানি আরও বেশি কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ হাছান রেগে গিয়ে বলেন, ‘পানি না থেকে কী থাকবে? অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার তো পানি আরও বেশি উঠছে। সকাল থেকে বাসা থেকে বের হতে পারিনি। এখন পানি কিছুটা কমেছে তাই বের হয়েছি।’

ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলছে। কিন্তু কই এর তো সুফল নেই। অন্তত পানি কম উঠতো, তখন বলতাম অন্তত পানি আগের চেয়ে কমেছে। এখন তো আরও বেড়েছে। তাহলে কি জলাবদ্ধতা প্রকল্পের নামে  টাকা নিজেদের পকেটে নিয়েছে। কিছুদিন খাল পরিষ্কার ও খনন করতে দেখেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে এসব খাল তো আবার ভরাট হয়ে গেছে। স্থায়ী চিন্তা করতে হবে, নয়তো আমাদের এই জলাবদ্ধতার দুঃখ কখনও ঘুচবে না।’

চকবাজারের কাঁচাবাজার এলাকার পাশের ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, খাল ভরাট হওয়ায় পানি চলাচল করতে পারছে না। এতে খালের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। এমনকি চকবাজার-কাপাসগোলা এলাকার মূল সড়কে বিভিন্ন স্থান থেকে বালি এসে স্তূপে পরিণত হয়েছে। যান চলাচলে বেগ পেতে দেখা যায়।

চকবাজার-কাপাসগোলা সড়কে বালুর স্তূপে আটকে পড়া মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ নামে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক বলেন, ‘আমাদের দুঃখের কথা কারে বলব? কেউ তো কথা শোনে না। দেখেন বিভিন্ন স্থান থেকে বালি এসে আমাদের গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। এমনিতেই বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, কাপাসগোলা এলাকায় ওঠা পানি পার হয়ে এসে এখানে বালুর স্তূপে আটকে গেলাম। এতে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে এখন আর চালু করা যাচ্ছে না। যাত্রীরাও নেমে গেছে।’

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কখনও কি কমবে না? উল্টো প্রশ্ন করেন তিনি। 

কাতালগঞ্চ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কেও হাঁটুর ওপরে পানি। এ সময় কথা হয় স্থানীয় সরফুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে এত বেশি পানি উঠতো না। মূলত খাল-নালা পরিষ্কার করছে না দীর্ঘদিন। তাই বৃষ্টি হওয়াতে পানি চলাচল করতে না পারায় এবার পানি বেশি উঠেছে। এই যে দেখুন মূল সড়কেই হাঁটুর ওপরে পানি। সকালে প্রায় কোমর সমান ছিল পানি। এখন অনেক কমছে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতার  স্থায়ী সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন, সিডিএসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। 

৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে সিডিএ‘র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর নেওয়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্রিগেড। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বতর্মান অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে খালের বিভিন্ন স্থানে রিটেইনিং ওয়াল, রেগুলেটর স্থাপনের কাজ চলছে।  

ছয় বছর ধরে কাজ করেও এখনও জলাবদ্ধতায় তেমন সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী, এর কারণ জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কোনো সদোত্তর না দিয়ে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত রয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে মানুষ সুফল পাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা