প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২২ ১৭:৪৭ পিএম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২ ১৭:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
“আমরণ রবো প্রকৃতির কোলে, প্রকৃতিই বোঝে ব্যথার রোদন। বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে যায় দুচোখের জল; আদরে বরণ”--কবির এ ভাষাই বলে দেয় প্রকৃতি আমাদের কতটা আপন। কিন্তু নগরায়ণের ফলে সংকুচিত হচ্ছে সবুজের স্নিগ্ধতা। যান্ত্রিক জীবনে খানিক স্বস্তির জন্য আমরা প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চাই আর সেখানেই আমরা দিন দিন সঙ্কট তৈরি করছি।
নিজেদের প্রয়োজনে গাছপালা কাটলেও নতুন করে আর গাছ লাগাতে আগ্রহ নেই আমাদের। অনেক খাল, বিল, পুকুর ভরাট করে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় দালান। শহুরে যান্ত্রিক জীবনে মানুষ যখন বিনোদন খোঁজে তখন প্রকৃতিকে ছুঁয়ে দেখা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিনোদনকেন্দ্রগুলোও এখন চার দেয়ালের মাঝে ইটপাথরে বন্দি হয়ে যাচ্ছে।
বড় বড় বেশ কিছু বিনোদনকেন্দ্র আছে যার সবগুলোই কৃত্রিমভাবে তৈরি। যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পাওয়া যায় না, প্রকৃতির ছোঁয়াও পাওয়া যায় না। সেখানে কৃত্রিম ঘাস লাগানো হয়, কৃত্রিম গাছপালা আর পশু-পাখি বানানো হয়। এটা নির্মল বিনোদন হতে পারে না। দুধের স্বাদ কখনও ঘোলে মেটে না।
কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, জাফলংয়ের মতো পর্যটন স্পটগুলোতে গেলে মানুষ প্রশান্তি অনুভব করে। কিন্তু দূর থেকে যেতে হলে সময় বের করাটা একটা ঝামেলা হয়ে যায়, পাশাপাশি ব্যয়বহুলও হয়ে যায়।
আমাদের প্রায় প্রতিটা জেলাতেই অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, যেগুলোকে গড়ে তোলা সম্ভব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে। আমাদের দেশের অর্থনীতিতে যেমন এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, তেমনি বিনোদনের আরও সুযোগও তৈরি হবে।
প্রকৃতিতে মানুষ সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় এবং এটি প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতাও। নির্মল বিনোদনের জন্য প্রকৃতিকে ধ্বংস না করেই বিনোদন উপযোগী করে গড়ে তোলা হোক।
প্রবা/রাই/জেআই