ওয়ার্কার্স পার্টির সেমিনার
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ০০:৪৬ এএম
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘কারও জন্য অপেক্ষা নয়, তিস্তার মানুষকে বাঁচাতে, উত্তর বাংলাকে বাঁচাতে, নিজস্ব অর্থায়নে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা পাড়ের মানুষের অর্থ দিয়ে সেটা করা সম্ভব। এজন্য তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে।’
ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন: প্রেক্ষিত পদ্মা ও তিস্তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রস্তাব করেন। শনিবার (২৫ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ছিল এ আয়োজন।
মেনন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে বাংলাদেশের দুঃখের শেষ হচ্ছে না। গঙ্গা চুক্তি শেষ পর্যায়ে, তিস্তা চুক্তি অধরাই রয়ে গেছে। উত্তর বাংলায় মরুকরণ ঘটছে, আর দক্ষিণ বাংলায় উঠে আসছে লবণাক্ততা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেই নদীর পানির সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
আলোচনা সভায় ‘১৯৯৬-এর গঙ্গাচুক্তির মেয়াদ শেষে আমাদের করণীয়’ নিয়ে বক্তব্য রাখেন নদী ও পরিবেশবিদ মাহবুব সিদ্দিকি ও সাংবাদিক শেখ রোকন। ‘বাংলাদেশের দুঃখ তিস্তা: তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেন তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী। সভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।
আলোচনার সূচনায় সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আন্তর্জাতিক নদীর পানির হিস্যা লাভের ন্যায্যতা নিয়ে মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা মার্চের উদ্যোগ ও পরবর্তীতে পশ্চিম বাংলার বামফ্রন্ট সরকার বিশেষ করে জ্যোতি বসুর ভূমিকায় গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু গঙ্গা চুক্তিতে যেভাবে পানি পাওয়া যাবে ভাবা হয়েছিল তা কখনও পাওয়া যায়নি। বরং ফারাক্কাসহ গঙ্গার উজানে পানি প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশের পানিপ্রাপ্তি কার্য্ত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনা এই বিপদকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গঙ্গা চুক্তি শেষ হওয়ার আগে ওই চুক্তির পর্যালোচনার ভিত্তিতে নবায়ন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য দিকে তিস্তা চুক্তি সম্পাদিত হলোই না, বরং তা এখন ভূ-রাজনীতির দ্বৈরথের শিকারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তির জন্য আর অপেক্ষা করতে পারে না। তিস্তা চুক্তি না করে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ভারতের অর্থায়নের সাম্প্রতিক প্রস্তাবের অর্থ কার্যত গরু মেরে জুতা দানের শামিল।’
সমাপনী বক্তব্যে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, গঙ্গা-তিস্তা পানি নিয়ে আর অপেক্ষা নয়। সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। ওয়ার্কার্স পার্টি এ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।