প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৪ ১৫:০৯ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন র্যাবের আইন ও গনমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম। প্রবা ফটো
‘শাহদাত’ নামে নতুন এক জঙ্গি সংগঠনের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সংগঠনের প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ও দুই প্রশিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর এ দাবি করে বাহিনীটি।
র্যাব জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়ায় ‘শাহাদাত’ নামে নতুন একটি সংগঠন তৈরি করা হয়। সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোসহ গোপনীয়তা রক্ষায় জঙ্গিরা বিশেষ অ্যাপস ব্যবহার করতেন।
শনিবার (২৫ মে) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মো. ইসমাইল হোসেন। এছাড়া আঞ্চলিক প্রশিক্ষক মো. জিহাদ হোসেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার এবং মো. আমিনুল ইসলাম ঝালকাঠির নলসিটি উপজেলার বাসিন্দা।
এর আগে শুক্রবার র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর গুলিস্তান ও নারায়নগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাবের পরিচালক জানান, তারা ‘আনসার আল ইসলামের’ সদস্য। আফগানিস্থানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামে’ যোগাদান করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তাদের সদস্য সংগ্রহসহ সব কার্যক্রম পরিচালনা ব্যহত হচ্ছে। এরপর আনসার আল ইসলাম মতাদর্শী ‘শাহাদাত’ নামে নতুন সংগঠন তৈরি করে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। ইসমাইল আনসার আল ইসলামের রিক্রুটিং শাখার প্রধান এবং ‘শাহাদাত’ সংগঠনের প্রধান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
ইসমাইলের বরাতে কমান্ডার আরাফাত জানান, এই সংগঠনটি সালাহউদ্দিন নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছে। এই গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে। তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে যোগদান করে। পরবর্তীতে তারা আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে ‘শাহাদাত’ সংগঠনের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করতো এবং সংগঠনের সদস্যদের শারীরিক কসরত প্রশিক্ষণ দিত। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সাতক্ষীরাসহ ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা যায়।
তাদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নতুন গোপনীয় এ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করতো এবং সংগঠনের সব নির্দেশনা এই অ্যাপসের মাধ্যমে প্রদান করত।
তিনি আরও বলেন, এ সংগঠনের অধিকাংশই মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক। সাধারণ লেখাপড়ায় শিক্ষিত উগ্র মনোভাবাপন্ন লোকজনকে আকৃষ্ট করার জন্য দেশ বিরোধিতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। এ সংগঠনে মাদ্রাসা শিক্ষক সদস্যগণ অত্যন্ত সু-কৌশলে মাদ্রাসা পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্রদের এ বিষয়ে অনুপ্রানিত করত।