প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ১৯:০৪ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৪ ১৯:৪১ পিএম
মঙ্গলবার রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রবা ফটো
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘পুলিশের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, জনগণের জানমাল, সরকারি সম্পদ হেফাজত করা। অন্য যেকোনো সংস্থার কর্মঘণ্টা আছে, কিন্তু পুলিশের কোনো কর্মঘণ্টা নেই। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হয়। পরিবারকে সময় দেওয়া এবং পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার সময়টুকুও হাতে থাকে না।’
মঙ্গলবার (২১ মে) সকালে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা আজ যে জায়গায় বসে আছি এই জায়গা একটি পবিত্র জায়গা, পবিত্র ভূমি। এই ঐতিহাসিক রাজারবাগ থেকেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে গভীর রাতে যারা প্রথম সাড়া দিয়েছিলেন তারা এই রাজারবাগের পুলিশ সদস্য।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি ২০২২-এর আওতায় ৩১৭ জন ও ডিএমপি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৩-এর আওতায় ৮১৪ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
ডিএমপি কমিশনার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যারা এখানে রয়েছ, যাদের বাবা পুলিশে কাজ করছে তাদের পূর্বসূরিরা অকুতোভয় সৈনিক। যারা দেশমাতৃকার জন্য পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সামান্য থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়ে। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা যুদ্ধ করেছিলেন এবং বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশের বাঙালিদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলেন; সেইসব বীর সদস্যদের উত্তরসূরি আমরা।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জীবনে চলার পথে আমরা কোনো না কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির জীবনী অনুসরণ করে চলি। আমিও তোমাদের একজন ব্যক্তির জীবন অনুসরণ করতে বলব, তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার শ্রদ্ধাভাজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা যদি তার জীবন, কর্ম, চিন্তাসহ সবকিছু পর্যালোচনা করি তাহলে আমরা দেখব তিনি একজন আদর্শ মানুষের প্রতিকৃতি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমার বাবাও একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন। বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল তখন প্রথম বুলেট কিন্তু ছুড়েছিলেন এই পুলিশ অফিসাররা এই রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকেই। রাজারবাগে এলে মনে হয় তীর্থভূমিতে এসেছি। এটা এমন একটি জায়গা যেখান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ তথা সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হলো পরীক্ষানির্ভর। সবাই পরীক্ষায় ভালো ফল করার চিন্তায় থাকে। অথচ পরীক্ষা ভালো হওয়ার সঙ্গে প্রকৃত ভালোর কোনো সম্পর্ক নেই। সিস্টেমের পরিবর্তন আসছে, আশা করি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে যে দিন আসছে তা হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগ। মানুষের কাজ যন্ত্র বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে করে ফেলা হবে। যন্ত্র ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে চিন্তা করার ক্ষমতা বা ইমাজিনেশন। যন্ত্রের চিন্তা করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) আছে। রোবট দুনিয়ার সবকিছু জানে, কিন্তু চিন্তা করতে পারে না। তোমাদের সেই চিন্তা করার ক্ষমতাটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. আশরাফুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।