প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৪ ১২:৩২ পিএম
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা। প্রবা ফটো
ঢাকার শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ের জায়গা ৩০টি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী মিলে দখল করে রেখেছে জানিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, সরকার যদি রাস্তার জমি উদ্ধার করতে পারে তাহলে নদী কেন উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয় না? মিডিয়াগুলো যারা দখল করে আছে, তাদের অনেকেই নদী দখল করে রেখেছে। সরকারি দলের অনেক এমপি ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে জড়িত।
বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নদী দূষণ রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান।
নাগরিক সংলাপে প্যানেল আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) এর প্রশিক্ষণ কো-অর্ডিনেটর জিলহাস উদ্দিন নিপুন, বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের (বিএফইউজে) কোষাধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র রিপোর্টার খায়রুজ্জামান কামাল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মিডিয়া বিভাগের প্রধান মোস্তফা আলমগীর রতন প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে নদী নিয়ে কাজ করা জ্যোষ্ঠ সাংবাদিকরাসহ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ এবং বালু নদী পাড়ের ভূক্তভোগী মানুষ অংশ নেন সংলাপে।
ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমাদের স্বাধীনতার শ্লোগান ছিল, তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা। সেই পদ্মা, মেঘনা, যমুনাকে বাঁচাতে কাজ করতে গেলে আজকে হুমকি আসে। সেসকল হুমকিকে মোকবেলা করার সক্ষমতা আপনারা গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ দেখিয়েছেন। গণমাধ্যমে রিপোর্ট আসছে। অনেক কোয়ালিটি রিপোর্ট হয় তবে সর্বপরি রিপোর্টের কোয়ালিটি আরও বাড়াতে হবে। নদীর আইন কেন প্রয়োগ হচ্ছে না তা নিয়ে কথা বলার সময় হয়েছে।
আলোচনায় রাজধানীর চারপাশের তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, বালু নদীসহ বিভিন্ন নদীর দূষণের চিত্র তুলে ধরেন স্থানীয়রা। নদী দূষণ প্রতিরোধ এবং বেদখলের লক্ষ্যে মতামত তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, নদী দূষণের প্রায় ৯০ শতাংশ ঘটছে কলকারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তথ্যের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। কিছু বিস্তারিত সংবাদ হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, সুন্দরবন আমাদের বড় বড় ঝড় থেকে রক্ষা করেছে কিন্তু এখন অনেকে দখলের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে আগুন লাগাচ্ছে। নদীগুলোতে বিষ দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। বিষের কারণে সেই এলাকায় অনেক বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, নদীর নিয়ে আরও গবেষণার উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা না থাকলে সাংবাদিকেরা তথ্য কোথায় পাবেন? নদী দূষণ শুধু ক্ষমাহীন অবহেলা নয়, ক্ষেত্রবিশেষে সংশোধন অযোগ্য অবহেলা।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির দপ্তর সম্পাদক মোস্তফা আলমগীর রতন বলেন, গণমাধ্যম কোনো বিষয় নিয়ে উদ্যোগ নিলে রাষ্ট্রেরও তা বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা নেই। তাই গণমাধ্যমের কর্মী ও মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
ওয়াটারকিপার্সের কোডিনেটর শরীফ জামিল বলেন, ঢাকার নদীগুলো অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। নদীকেও তো বেঁচে থাকতে হবে। দখলদাররা নিয়মিতভাবে দখল করে নিচ্ছে সব নদী। নদী থেকে সব দখলদারদেরকে উচ্ছেদ করতে হবে। ইটিপি স্থাপনের মাধ্যমে কারখানার দূষিত বর্জ্যকে পরিশোধনের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি তাহলে বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারবো না। তাই পরিকল্পনা প্রণয়নকারী এবং পর্যবেক্ষণের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ও দুর্বল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ফলে দূষণকারীরা সহজেই জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারে।