বিএনপিএসের সম্মেলনে বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৪ ১৮:২০ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৪ ১৯:৫০ পিএম
বিএনপিএস আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ : নারীসমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা। প্রবা ফটো
বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলে কোনো নীতিমালাই নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না বলে মনে করে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)। তাই নারীর ক্ষমতায়নে বরাদ্দ জেন্ডার বাজেটের কার্যকর বণ্টন, বাস্তবায়ন ও বরাদ্দ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৩ মে) বিএনপিএস আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ : নারীসমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলেন বক্তারা।
এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএস- এর নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, ‘সরকার জেন্ডারবান্ধব বাজেট করলেও বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পর্যালোচনা বা সমীক্ষা পাওয়া যায় না। পর্যবেক্ষণের অভাবে বাজেটে বরাদ্দের কতটুকু নারীর জীবনের কোন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো, সে বিষয়েও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রণালয়গুলোর জেন্ডার সংবেদনশীল প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও কম বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়। বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দের পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের সময় সে বরাদ্দ নারী উন্নয়ননীতির কর্মকৌশল অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তার কোনো খতিয়ান আমরা দেখতে পাই না। তাই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বরাদ্দকৃত জেন্ডার বাজেটের কার্যক্রমগুলো কীভাবে সরাসরি নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার অগ্রগতসংক্রান্ত রিপোর্ট প্রতিবছর তৈরি ও জনসমক্ষে পেশ করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে রোকেয়া কবীর বলেন, ‘দেশের ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীই নারী; যাদের সিংহভাগই সম্পদহীন, ক্ষমতাহীন, উপার্জনের সুযোগবঞ্চিত ও পরনির্ভরশীল। তাই তাদের দিকে ন্যায়সম্পন্ন ও কার্যকরভাবে সম্পদপ্রবাহ বৃদ্ধি করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরের বাজেটে নারীদের বড় আকারের ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু একজন নারীকে বড় আকারে ঋণ নিতে হলে সম্পদ বন্ধক দিতে হয়। যার উত্তরাধিকারে সমান অধিকার নেই, তিনি কীভাবে সম্পদ বন্ধক রাখবেন? সম্পদ বন্ধক ছাড়া নারীদের ঋণ প্রদানের নিয়ম চালু করতে হবে। এজন্য উত্তরাধিকার আইনে নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।’
এ সময় খাসজমির বণ্টনে নারীদের ক্ষেত্রে শর্তবিহীন (উপযুক্ত ছেলে থাকা) বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অন্য বক্তারা বলেন, জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের বিষয়টি জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টনের সঙ্গে যুক্ত। জেন্ডার বাজেট নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে যুক্ত।
তারা আরও বলেন, নারী উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন ঘোষণা ও উদ্যোগের কমতি নেই। বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেও যে প্রক্রিয়ায় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক হচ্ছে কি না- এ প্রশ্ন থেকেই যায়। তাই আগামী দিনে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দৃষ্টি দিতে হবে।
জাতীয় বাজেটে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে বিএনপিএস কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে।
সেগুলো হলো—মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বরাদ্দকৃত জেন্ডার বাজেটের কার্যক্রম কীভাবে সরাসরি নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালার সঙ্গে সম্পর্কিত, তার অগ্রগতিসংক্রান্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে পেশ করতে হবে; নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নেওয়া কৌশলগুলো কতটুকু জেন্ডার চাহিদা পূরণ করছে এবং অগ্রগতি কতটুকু, তার সংখ্যাতাত্ত্বিক ও গুণগত বিশ্লেষণের পরিমাপক নির্ধারণ করতে হবে; প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জেন্ডার বাজেট বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জেন্ডার ও জেন্ডার বাজেটবিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।