× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চনপাড়ার গল্প কাল্পনিক : ফারদিনের বাবা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২২ ২৩:১৮ পিএম

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২২ ০০:০৪ এএম

ফারদিন নূর পরশ

ফারদিন নূর পরশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে নিতে এবং প্রকৃত খুনীদের আড়াল করতে চনপাড়া বস্তির এমন কাল্পনিক গল্প কেউ সাজিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নিহতের বাবা কাজী নূর উদ্দিন। এজন্য তিনি হতাশ নন। তার বিশ্বাস, মামলাটির বর্তমান দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা পুলিশ প্রকৃত ঘটনা বের করতে সক্ষম হবে। ফলে তাদের উপর ভরসা হারাতে চান না তিনি।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) রাতে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমার ছেলে কখনও সিগারেটও স্পর্শ করেনি। ফলে সে মৃত্যুর রাতে মাদক কেনার জন্য নারায়নগঞ্জের চনপাড়ায় গিয়েছিল ও সেখানে ঝামেলার সূত্র ধরে তাকে মাদক কারবারীরা পিটিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেয় বলে গণমাধ্যমে যা প্রকাশ হয়েছে তার পুরোটাই কাল্পনিক ও বানোয়াট। 

তিনি মনে করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।  

ফারদিন ওই রাতে ঢাকা ছেড়ে নারায়নগঞ্জের চনপাড়ায় মাদক কিনতে কেন যাবেন- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, হত্যাকারীরা তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে কেন আঘাত করলো এবং তারা তার সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্রগুলো কেনই বা নিল না? তাছাড়া ফারদিন কেন ওই জায়গা যাবে? 

তিনি বলেন, মাদক তো ঢাকায় সহজে পাওয়া যায়। তাকে কেন সেখানে যেতে হবে? আর কেন তাকে ৮ থেকে ১০জন মিলে পিটিয়ে মারবে। তারা অন্য কোথায় আঘাত না করে কেনই বা তার বুকে, হৃদয়ে ও  মস্তিকে আঘাত করলো। তার মানে, তাদের কাছে তার  ব্রেন, হৃদয় ও বুক মূল্যবান মনে হয়েছে। এজন্য তারা তাকে হত্যার জন্য সেসব স্থানে আঘাত করেছিল। আর তাকে হত্যার পর তার কোন কিছু না নিয়ে ছেড়ে দেবে এটা কী করে হয়?

ফারদিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তাকে হত্যার পর কী মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মোবাইল ও মানিব্যাগ মূল্যবান মনে হয়, যদি তারাই তাকে হত্যা করবে তাহলে সেসব মূল্যবান জিনিস কেন নিল না?

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে কখনোই ধূমপান করেনি। আমার সন্তান মারা গেছে, আমি বিচার প্রার্থী। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্যই চনপাড়ার গল্প সাজানো হয়েছে। তাকে মাদক কেনার জন্য সেখানে যাওয়ার দরকার নাই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ বা ঢাকার আশপাশেই এটি সহজে পাওয়া সম্ভব। সে কেন জনসন রোডে যাবে, পুরান ঢাকায় যাবে, জুরাইন যাবে, কেরানীগঞ্জ থেকে চনপাড়া যাবে? যারা তার চনপাড়ার গল্প সাজিয়েছে তারা কোন একটি উদ্দেশ্যে এটি করছে।

ফারদিনের বাবা বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে চনপাড়ার গল্প কোনোভাবেই যায় না। ফারদিন কোনোভাবেই সেখানে যেতে পারে না।

তিনি বলেন, আমার প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন ও শাসন ব্যবস্থার উপর আস্থা আছে। তাই বলব, যারা এমন কাল্পনিক গল্প সাজাচ্ছে তারা ভিন্নখাতে নিতেই এমনটি করছে। তবে ডিবির উপর ভরসা রাখতে চাই। আমার বিশ্বাস ডিবির তদন্তে প্রকৃত জড়িতরা বেরিয়ে আসবে। আমরা পটিজিভ কিছু ভাবব।

গত ৭ নভেম্বর বিকালে নারায়ণগঞ্জের লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নৌ-পুলিশ ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন গত ৪ নভেম্বর শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। ৫ নভেম্বর রাজধানীর রামপুরা থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা কাজী নূর উদ্দিন। সোমবার লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেউলপাড়া কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ জানান, ফারদিনের মাথার বিভিন্ন অংশে ও বুকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটি একটি হত্যাকাণ্ড। দ্রুতই ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে। 

রামপুরা থানায় ফারদিনের বাবার করা হত্যা মামলায় আসামি করা হয় আমাতুল্লাহ বুশরাকে। এ মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন বুশরা। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা