প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২২ ২০:১৭ পিএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২২ ২০:২০ পিএম
নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত মো. ইকবাল হোসেন ওরফে রানা। ছবি: প্রবা
নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে নকল ওষুধ বাজারজাতকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম- মো. ইকবাল হোসেন ওরফে রানা।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। এসময় তার কাছ প্রায় ৩ লাখ পিস বিভিন্ন কোম্পানির নামে নকল ওষুধ জব্দ করা হয়।
জব্দ করা এসব ওষুধের মধ্যে লোসেকটিল, প্যান্টনিক্স ও সেকলোসহ বিভিন্ন নামিদামি ব্রান্ডের গ্যাস্টিক ও ইটোরিক্স নামের দাঁত ব্যাথা সারানোর ওষুধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে (ডিএমপি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিঝিল বিভাগের একটি টিম বুধবার মধ্যেরাতে ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের সামনে থেকে একটি ওষুধের কার্টুনসহ ইকবাল হোসেনকে আটক করে।

কার্টুনের ভিতর কি আছে জানতে চাইলে ইকবাল জানান, কার্টুনে ওষুধ আছে। পরবর্তীতে কার্টুন খুলে তার ভেতর থেকে ভেজাল ২৫ হাজার ৪৮০পিস প্যান্টনিক্স ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসএ পরিবহন ইংলিশ রোড শাখা থেকে ২ কার্টুন ভেজাল সেকলো ক্যাপসুল জব্দ করা হয়। ওই কার্টুনের প্রায় ৩৬ হাজার পিস ক্যাপসুল ছিলো। পরবর্তীতে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে কুমিল্লা শহরের স্টেশন রোড থেকে ইকবালের ভাড়াকরা গোডাউন থেকে বিভিন্ন নামি-দামী ওষুধ কোম্পানির ২,৪১,৯০০ পিস ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
ডিবি প্রধান বলেন, চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে নকল ওষুধ তৈরি করে কুমিল্লা, ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসিতে সরবরাহ করে আসছিল। ইকবাল নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. আতিয়ারের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিবহনে পার্সেলের মাধ্যমে নকল ওষুধ সংগ্রহ করে কুমিল্লা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় গোডাউনে সংরক্ষণ করতো। এই ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, এক শ্রেণীর প্রতারকচক্র ভেজাল ওষুধ তৈরি করে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। এছাড়াও বেশ কিছু ইউনানী কোম্পানী আছে যারা ভেজাল ওষুধ তৈরি অথবা সহজলভ্যভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে তারা বিজ্ঞাপন দিয়ে যৌনক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সস্তা বিজ্ঞাপন দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছে। তাদেরকেও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। এ চক্রটি কোন কোন এলাকায় এসব নকল ওষুধ বিক্রি করছে তা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ৮০টি সন্দেহজনক ইউনানী কোম্পানীর বিষয়ে ওষুধ প্রসাশন কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়েছি। সেই তথ্যটা তারা যাচাইবাছাই করে ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। এক্ষেত্রে তারা যদি আমাদের সহায়তা চান আমরা সহায়তা করবো।