ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ০৭:৩২ এএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৩১ পিএম
প্রতীকী ছবি
যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রাজধানীতে নামানো হচ্ছে আধুনিক বাস। প্রতি ১ কিলোমিটার পর এ বাসের দরজা খোলা হবে। তখন যাত্রীরা উঠতে-নামতে পারবেন। এ ছাড়া যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে থাকছে স্মার্টকার্ড টিকিটিং পদ্ধতি।
ইতোমধ্যে সবুজ রঙের বাস পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করছে। স্বস্তিতে মানুষ যাতে চলাচল করতে পারে সেজন্য ৭০টি স্টপেজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ স্টপেজগুলো সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে। প্রতি ১ কিলোমিটার পর একটি স্টপেজ থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানুষ হেঁটে স্টপেজে পৌঁছে টিকিট কেটে গন্তব্যে যাবে। সিটি করপোরেশন ও সওজ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, জনসংখ্যার চাহিদার বিপরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা ৯ হাজার ২৭টি। এর মধ্যে বড় বাস ৬ হাজার ৪৫৭ ও মিনিবাস ২ হাজার ৫৭০টি। ৪২ সিটের বাসের পাশাপাশি ডাবল ডেকার বাসও রয়েছে। শহর ও উপশহর মিলিয়ে চলবে এ গণপরিবহনগুলো। বাস পরিচালনায় নিয়োজিত ২২ কোম্পানির অধীনে ৪২ রুটে নির্দিষ্ট সময় পরপর চলবে বাসগুলো।
কোম্পানির বাসের রং হবে ছয় ধরনের এবং গন্তব্যের দিকনির্দেশনা থাকবে তিনটি ও স্থানের নাম দুটি। যাত্রীদের গন্তব্য নির্দেশ করবে ওই রং। রংগুলো হচ্ছে—গোলাপি, নীল, মেরুন, কমলা, সবুজ ও বেগুনি। গন্তব্যের দিকনির্দেশনা হিসেবে থাকবে নর্থ (উত্তর), নর্থ-সাউথ (উত্তর-দক্ষিণ) ও সাউথ (দক্ষিণ)। এ ছাড়া ‘ঢাকা চাকা’ ও ‘গুলশান চাকা’ও নিয়মিত চলছে রাজধানীর অভিজাত এলাকায়।
এ বাসগুলো রাজধানী ও এর আশপাশের উপশহরজুড়ে চলাচল করবে। সব বাস নামার পর অবৈধ ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো তুলে দেওয়া হবে। চলার অনুপযোগী বাসগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হবে উচ্ছেদ অভিযান। তবে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) থেকে লোকাল সার্ভিস ও সিটিং এ দুই ধরনের সেবা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ডিটিসিএ মনে করে আধুনিক ও রুচিশীল বাস রাজধানীসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে নামানো হলে ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল কমবে। এ আধুনিক বাস চলাচলের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে ডিটিসিএ।
সূত্র জানায়, ভালো মানের বাস কোম্পানি যাতে এ কাজে যুক্ত হয় সেজন্য তাদের উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঋণের সুদহার হবে ৪ থেকে ৫ শতাংশ। বর্তমানে সাধারণ ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। প্রায় ৪ হাজার বাস কেনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। পর্যায়ক্রমে আরও বাস কেনা হবে। বর্তমানে দুটি নতুন রুটে এ সার্ভিস চলাচল করছে।
জানতে চাইলে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিহা পারভীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২১, ২২ ও ২৬ নম্বর ক্লাস্টারের সবুজ রঙের বাস ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করছে। স্বস্তিতে মানুষ যাতে চলাচল করতে পারে সেজন্য ৭০টি বাস স্টপেজ নির্মাণ শেষ হয়েছে। এ স্টপেজগুলো সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে। প্রতি ১ কিলোমিটার পরপর একটি স্টপেজ থাকবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানুষ হেঁটে বাস স্টপেজে পৌঁছে টিকিট কেটে গন্তব্যে যাবে।
সাবিহা পারভীন আরও বলেন, বর্তমানে রাজধানীর গণপরিবহনগুলো এলোমেলো চলছে। যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। এভাবেই মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখন নতুন যে বাসগুলো নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, প্রথম প্রথম হয়তো যাত্রী ও বাসচালকরা তা মানতে রাজি হবেন না। তাই শুরুতে কাউন্সেলিং করতে হবে এবং পরে বাধ্য করতে হবে। তা হলেই রাজধানীতে যানজট কমবে এবং মানুষ স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাবে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সিটি করপোরেশন ও এ-সংক্রান্ত টিম কাজ করবে। এতে সরকার সহায়তা দেবে।
ডিটিসিএর তথ্যানুযায়ী, রাজধানী ও উপশহরগুলোয় গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন বাস নামানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালে প্রস্তাব ছিল ২২টি রুটে ছয়টি কোম্পানির তত্ত্বাবধানে বাসগুলো চলবে। ওই প্রস্তাবে গন্তব্যের নিদের্শনা ছিল না। পরবর্তী পর্যায়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ডিটিসিএ ৪২ রুটে ২২ কোম্পানির তত্ত্বাবধানে ৯ ধরনের রংসংবলিত বাস নামানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে স্টপেজ নির্মাণের কাজ চলছে।
গোলাপি রঙের বাস (রুট-১, ২, ৩ ও ৪ ) আবদুল্লাহপুর হয়ে মতিঝিল-সায়েদাবাদ-সদরঘাট-ঝিলমিল চলাচল করবে। নীল রঙের বাস (রুট-৫, ৬, ৭ ও ৮) আবদুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুর-হেমায়েতপুর চলবে। মেরুন রঙের বাস (রুট-৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩) হেমায়েতপুর থেকে কাঁচপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ-স্টাফ কোয়ার্টার-সদরঘাট চলবে। কমলা রঙের বাস (রুট-১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০) মিরপুর-১২ থেকে ভাসানটেক-রূপনগর-চিড়িয়াখানা-দুয়ারীপাড়া-ইসিবি চত্বর হয়ে আজিমপুর-সদরঘাট-ঝিলমিল-কাঁচপুর-নারায়ণগঞ্জ পথে চলবে।
সবুজ রঙের বাস (রুট-২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭ ও ২৮) ঘাটারচর থেকে নারায়ণগঞ্জ-মেঘনাঘাট-ভুলতা-তালতলা-আবদুল্লাহপুর পথে চলবে। বেগুনি রঙের বাস (রুট-২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪) কাঁচপুর, ধলেশ্বরী, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মিরপুর হয়ে আবদুল্লাহপুর চলাচল করবে। নর্থ লেখাসংবলিত বাসগুলো (রুট-৩৫, ৩৬ ও ৩৭) কালিয়াকৈর-শেরপুর-কাপাসিয়া-গাজীপুর-ঘোড়াশাল থেকে আবদুল্লাহপুর পথে চলবে। নর্থ-সাউথ লেখাসংবলিত বাসগুলো (রুট-৩৮, ৩৯ ও ৪০) চন্দ্রা, ন্যাশনাল পার্ক, পাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ থেকে হেমায়েতপুর পথে চলবে।
সাউথ লেখাসংবলিত বাসগুলো (রুট-৪১ ও ৪২) মুন্সীগঞ্জ, মাওয়াঘাট ও নবাবগঞ্জ থেকে সায়েদাবাদ হয়ে ঝিলমিল চলাচল করবে। ঢাকা চাকা লেখাসংবলিত বাসগুলো (রুট-২) নতুনবাজার-পুলিশ প্লাজা থেকে কাকলি হয়ে গুলশান-২ এবং গুলশান চাকা লেখাসংবলিত বাসগুলো (রুট-১) নতুনবাজার থেকে কাকলি পর্যন্ত চলবে। সবুজ রংসংবলিত রুটের বাসগুলো রাজধানীর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে চলবে।