প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৩৯ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৭:০৮ পিএম
বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও ভাষাসংগ্রামী মাহবুব উল আলম চৌধুরী ভারতবর্ষ ভাগের পর বৈরী পরিস্থিতিতে এবং সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততার সময় চেতনার অনির্বাণ শিখা প্রজ্বলিত করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান।
সোমবার (৭ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে মোরশেদ শফিউল হাসান এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব এ. এইচ. এম. লোকমান। “মাহবুব উল আলম চৌধুরী ও তাঁর ‘সীমান্ত’ পত্রিকা” শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী সম্পাদিত সীমান্ত পত্রিকাটি আমাদের সাময়িকপত্রের ইতিহাসে অবিস্মরণীয়। ভারতভাগ ও পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র তিন মাসের মাথায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী জেলা চট্টগ্রাম থেকে সীমান্ত পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ এই পাঁচ বছরই ছিল সীমান্ত-এর আয়ুষ্কাল। সম্পাদক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর ধারণা মতে, এই সংক্ষিপ্ত সময়কালে সীমান্ত-এর ৪৮টির মতো সংখ্যা বেরিয়েছিল।
অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, বৈরী পরিস্থিতিতে এবং সাম্প্রদায়িক উন্মত্ততার কালে সীমান্ত পত্রিকার দাঙ্গাবিরোধী সংখ্যা প্রকাশ করে মাহবুব উল আলম চৌধুরী প্রজ্বলিত করেছেন চেতনার অনির্বাণ শিখা। প্রথম জীবনে যে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক চেতনা, সংগ্রামী মানবতা ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের সঙ্গে একাত্মতাবোধ তাকে প্রাণিত করেছিল, আমৃত্যু তিনি তাকে ধারণ ও বহন করেছেন; পরবর্তী জীবনে তার কাব্যচর্চা, সাংবাদিকতা, স্মৃতিচারণমূলক রচনা ইত্যাদিতে যার প্রতিফলন ঘটেছে।
কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী একাধারে কবি, সাংবাদিক, ভাষাসংগ্রামী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। ভাষা আন্দোলনের অমর কবিতার লেখক হিসেবে আমাদের ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। এ ছাড়াও সারা জীবন কবিতায় ও সক্রিয়তায় তিনি শুদ্ধতা, সদাচার ও মানবমঙ্গলের গান গেয়েছেন।
তিনি বলেন, মাহবুব উল আলম চৌধুরী সম্পাদিত সীমান্ত পত্রিকার সবগুলো সংখ্যা সন্ধান করে বাংলা একাডেমি সংগ্রহ আকারে প্রকাশ করতে আগ্রহী। যার মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িকতার জন্য বাঙালির সংগ্রামের প্রামাণ্য রূপ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।