বেইলি রোডে মানববন্ধনে বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৪ ২২:০২ পিএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪ ২২:৫৩ পিএম
সোমবার বেইলি রোডে বাণিজ্যিক ও রেস্তোরাঁ ভবনের নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তার দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। প্রবা ফটো
‘বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটা সরাসরি হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের দায় সরকার, সিটি করপোরেশন ও রাজউক কেউ এড়াতে পারে না। অগ্নিকাণ্ড কবলিত ভবনের মালিক, রেস্টুরেন্ট মালিক, সিটি করপোরেশন ও রাজউকের সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
সোমবার (৪ মার্চ) বিকালে বেইলি রোডে বাণিজ্যিক ও রেস্তোরাঁ ভবনের নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি জানিয়েছেন বেইলী রোড ও মতিঝিল এলাকার বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বেইলী রোডের বাসিন্দা রাশেদা কুদ্দুস রানু। বক্তব্য রাখেন পুড়ে যাওয়া ভবনের পাশের বাসিন্দা রঞ্জনা দেবি, কল্লোল বনিক, কমিউনিস্ট পার্টি শান্তিনগর শাখা নেতা হযরত আলী, উদিত শিল্পী গোষ্ঠীর মনজুরুল মোর্শেদ প্রমুখ।
রাশেদা কুদ্দুস রানু বলেন, ‘আগুনে পুড়ে এত মানুষ মারা গেল কিন্তু তাদের জন্য কারো কোনো দয়া-মায়া যেন নেই। নিহতদের স্মরণ কিংবা ঘটনার প্রতিবাদে এই এলাকার একটা দোকান একদিনের জন্যও বন্ধ করা হয়নি, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। এই শহরের শত শত দোকান অনিরাপদ, সেগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’
রঞ্জনা দেবি বললেন, পাশের ভবেনের এতোগুলো মৃত্যু আমাকেও কাঁদায়। কিন্তু যারা বিভিন্ন দায়িত্বে আছেন তাদের কাঁদায় না। সবাইকে এক হয়ে এমন মৃত্যুর প্রতিবাদ করতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর দায়ভার যাদের আছে তাদের শাস্তির দাবিতে আমরা রাজপথে থাকব।
কল্লোল বনিক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস বলে দিল নোটিস দেওয়া হয়েছিল, অগ্নিঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এটা দেখার দায়িত্ব কার? নোটিস দেওয়া হয় কিন্তু বাস্তবায়ন করবে কে? আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তো সরকারের। যদি সরকার আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, আসুন আমরা এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিবাদ করি। আমরাই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।
হযরত আলী বলেন, সবার নিরাপত্তার জন্য এই মার্চ মাসে একটা দেশ গড়তে যুদ্ধ করা হয়েছে। আজ ৫৩ বছর পর আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে, একটু ভালো খাওয়া-দাওয়া করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। এভাবে আগুনে পুড়ে মরার জন্য জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করা হয়নি।
মনজুরুল মোর্শেদ বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে এটা দুর্ঘটনা বলে উড়িয়ে দিতে পারি না। এমন ঘটনা দুর্ঘটনা নয়, সরাসরি হত্যাকাণ্ড। হাজার হাজার ভবনে ঝুঁকি নিয়ে রেস্টুরেন্ট চলছে, আগুনের ঘটনা ঘটেছে, কোনো বিচার করা হয় না। এসব ঘটনা হত্যাকাণ্ড বিবেচনা করে বিচার করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য শেষে খেলাঘরের শিশুরা নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।