× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৪ ১৬:৩৮ পিএম

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪ ১৭:১১ পিএম

শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা। প্রবা ফটো

শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা। প্রবা ফটো

বাঙালির স্বাধীনতার প্রেরণা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ শুরু করার মাস মার্চ শুরু হয়েছে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালিরা। ৫৩ বছর পর সেই একই প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধারা এক হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে রাঙিয়ে দিনটিকে উদযাপন করছেন তারা। 

শনিবার (২ মার্চ) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় ‘সংবর্ধনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ’। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধারা। দীর্ঘদিন পর অনেকের চেহারা দেখার সুযোগ হচ্ছে, এতেই আবেগাপ্লুত তারা। একসঙ্গে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। আজকে আবার একত্রিত হলেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে। কেউ হুইলচেয়ারে করে আবার কেউ লাঠি হাতে যোগ দিয়েছেন অনুষ্ঠানে। 

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঢাকা জেলা ও মহানগর ইউনিট কমান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। 

অনুষ্ঠানে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. কামরুল ইসলামসহ অনেকে। সামনের সারিতে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা। সমাবেশের শুরুতে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিটের নিরবতা পালন করা হয়। পরে বক্তব্য দেন অতিথিরা। 

মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবিও উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচন, চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল করা, ভাতা ২০ হাজার থেকে উন্নীত করে ৫০ হাজার টাকা করা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি। 

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এসে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে মিলিত হওয়ার মাধ্যমে বাঙালি জাতি বিশেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের পূর্ণতা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কীভাবে দেশকে গড়ে তুলবেন তার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকের এই সমাবেশ অনেক গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমরা বুক ফুলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে পারি নাই, অনেকে রয়েছেন যারা তাদের প্রমাণাদি পুড়িয়ে ফেলেছিলেন বা মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে তিনি লড়াই সংগ্রাম শুরু করে, বাঙালি জাতি আবার ঘুরে দাঁড়ায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে ভাতা চালু করা হয়েছে, কেউ মারা গেলে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের কবর এক ডিজাইনে করার প্রকল্প পাস হয়েছে, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে, যুদ্ধ করা জায়গাগুলো সংরক্ষণ হচ্ছে, স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়েছে।’  

মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় অনেক বেশি সম্মানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি মন্ত্রী আছি, কালকে থাকব না। মুক্তিযোদ্ধা আমি, সারা জীবনই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে থাকব, মরে গেলেও থাকব। এটাই বড় পরিচয়। মন্ত্রী তো কত মানুষ হয়েছে, কত মানুষ হবে। কত চোর বাটপার, খুনি, রাজাকার, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীরাও তো মন্ত্রী হয়েছে। খালেদা জিয়া বানিয়েছে তাদের। মন্ত্রী বড় পরিচয় না, বড় পরিচয় আমরা মুক্তিযোদ্ধা, দেশ স্বাধীন করেছি। নির্বাচিত কমিটি না হওয়ায় অনেক কাজ হচ্ছে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সংসদ পরিচালিত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিচ্ছি- মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে মহাসমাবেশ; বাজেটে সম্মানজনক হারে ভাতা বৃদ্ধি করা।‘ 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দিতে ৫৩ বছর ধরে অনেক যাচাই-বাছাই হয়েছে। এতে অনেক অমুক্তিযোদ্ধাও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এখন এটার একটি ফুলস্টপ হওয়া উচিত। আর যাচাই-বাছাই যাতে না হয়, সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আমরা দেখতে চাই। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে আমাদের সংসদের নির্বাচন হোক। সেখানে তাদের হাত ধরে এই সংসদ কাজ পরিচালনা করতে পারবে। পাকিস্তানের সেই শক্তি আজও ষড়যন্ত্র করছে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। আমরা দ্বিধাবিভক্ত ছিলাম বলেই ১৯৭৫ সালে তারা জাতির পিতাকে হত্যা করতে পেরেছিল। আমরা যে হারানো সম্মান ফিরে পেয়েছি, তা আবার হারাতে চাই না।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা