বেইলি রোডে আগুন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৪ ০৮:৫৯ এএম
রাজধানীর বেইলি রোড এলাকার নওরতন কলোনির পুকুর। প্রবা ফটো
রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারত। কিন্তু দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছে নওরতন কলোনির পুকুরটি। এই পুকুরের পানি দিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয় আগুন। এতে প্রাণ বেঁচে যায় অনেক মানুষের।
এর আগে রাজধানীর বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট কাজ করেছিল। পানি ছিটানো হয়েছিল হেলিকপ্টারেও। দীর্ঘ ৭৫ ঘণ্টা পর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বঙ্গবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে দেরি হয় মূলত পানিস্বল্পতার কারণে। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে পানির ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে কৃষি মার্কেটের আগুন সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। সেখানেও ছিল পানিস্বল্পতা। বিকল্প হিসেবে বাসাবাড়ি থেকে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই অবস্থা হয় রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে। সেই আগুন ফায়ার সার্ভিসের ৩০ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছিল সাড়ে তিন ঘণ্টা পর। নিউ মার্কেটের আগুনেও ফায়ার সার্ভিস বলেছিল পানির স্বল্পতার কথা।
নওরতন কলোনির নিরাপত্তাকর্মী মানিক মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, শুরুতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে থাকা পানি দিয়ে আগুন নেভানো হচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর পাইপ দিয়ে এ পুকুর থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানো শুরু করে।
নওরতন কলোনির বাসিন্দা সিয়াম আহমেদ বলেন, এ পুকুরটা না থাকলে আশপাশের অনেক ভবনেই আগুন ধরে যেত। অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটত। পুকুরটাই অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। অথচ আমরা ঢাকা শহরের সব পুকুর-জলাশয় ভরাট করে ফেলছি।
ইলেকট্রনিক সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসাব) সভাপতি নিয়াজ আলী চিশতি সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটিতে কোনো ফায়ার সেফটি প্ল্যান ছিল না। ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। যদি পাশের ভবনের (নওরতন কলোনি) পেছনে পুকুর না থাকত তাহলে ভয়ংকর অবস্থায় পড়তে হতো। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হতে পারত। এই পুকুরটাই অগণিত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে বলা যায়।
এদিকে র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ আলম বলেন, নিচের একটি ছোট দোকানে প্রথমে আগুন লেগেছিল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে মারা গেছেন। তিনি বলেন, ভবনটিতে একটি মাত্র সিঁড়ি ছিল। দুটি লিফট ছিল। ভবনের নিচতলার প্রবেশমুখে আগুন লাগায় কেউ নিচে নামতে পারেনি।