× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বেইলি রোডে আগুন

‘আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি’

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৪ ১৩:০৭ পিএম

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪ ১৪:০৪ পিএম

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার।  প্রবা ফটো

অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। প্রবা ফটো

বেইলি রোডে বৃহস্পতিবার যে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনটিতে আগুন লাগে সেটির পাঁচ তলায় একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। কামরুজ্জামান মজুমদার মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার শ্বাসরুদ্ধকর বিবরণ দিয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে। 

শুক্রবার (১ মার্চ) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আমরা বেঁচে গেছি। বিকাল পৌনে ৯টার দিকে বেইলি রোডের সেই ভবনে যাই। যাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই হইছই শুনতে পাই ও আগুনের ধোঁয়া দেখি। তখন আমার সাথে স্ত্রী ও দুই সন্তান ছিল। এ অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নামতে চেষ্টা করলেও ধোঁয়ার কারণে নামা সম্ভব হচ্ছিল না। 

মানুষের আর্তনাদের বর্ণনা দিয়ে এ অধ্যাপক বলেন, মানুষ নিচ থেকে চিৎকার করতে করতে উপরের দিকে আসছিল। তখন আমরা নিচের দিকে না গিয়ে ছাদে চলে যাই। আমরা পঞ্চম তলায় ছিলাম। উপরে আরও দুটি ফ্লোর। সেখানে গিয়ে দেখি নারী-শিশুসহ ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ অবস্থান করছে। সেখানে এক মর্মান্তিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এক সময় ধোঁয়া সিঁড়ি দিয়ে ছাদেও চলে আসে। ছাদের যে দরজা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছিল সেখানেই ছিল আমাদের অবস্থান। ছাদেও দুটি রেস্তোরা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে আসতে বললেও আসা সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ দরজা দিয়ে ধোঁয়া আসছিল।

এই অধ্যাপক বলেন, ছাদে নামাজের জন্য বরাদ্দ ২৫ ফিট বাই ২৫ ফিট জায়গায় ৫০ জন মানুষ অবস্থান নিয়েছিল। আগুন আমাদের খুব কাছাকাছি ছিল। সিঁড়িতে আগুন ছিল। আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম আগুন জ্বলছে। অনেকেই প্যানিক হয়ে যাচ্ছিল। কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদেরকে থামানোটা ছিল কঠিন কাজ। কেননা একজন একজন করেও যদি লাফ দেওয়া শুরু করে তাহলে বিপদ। বাচ্চারা এসব দেখে প্যানিক হয়ে যাচ্ছিল। তিনজনকে লাফ দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ফায়ার সার্ভিস আসছে এই সংবাদ মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সেখানে বিশাল এক মর্মান্তিক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষকে দমিয়ে রাখাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মানুষকে কি করতে হবে এমন কিছু গাইডলাইন থাকার দরকার। 

ভবন তৈরির বিষয়ে পরামর্শ

আগুন থেকে বাঁচার জন্য বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, প্রথমত, আমরা গ্লাস দিয়ে বিল্ডিং তৈরির যে কালচার শুরু করেছি তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি আগুনের জন্য বড় ধরনের হুমকি। কেননা যে ৪৫ জন মানুষ নিহত হয়েছে তাদের কিন্তু ধোঁয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে। গ্লাস দিয়ে আবৃত থাকায় ধোঁয়া বাইরে যেতে পারেনি। 

দ্বিতীয়ত, যেসব ভবনে রেস্তোরাঁ থাকবে সেসব তৈরিতে বিশেষ গাইডলাইন থাকতে হবে। যেখানে সেখানে রেস্তোরাঁ করা যাবে না। 

তৃতীয়ত, বহুতল ভবনসহ সব ভবনের ছাদের দরজা খোলা রাখার বাধ্য বাধকতা থাকতে হবে। কেননা শহরে ভাড়াটিয়াদের ছাদের চাবি দেওয়া হয় না। এতে করে আগুণ বা অন্যান্য দুর্যোগে ছাদ দিয়ে অন্য ভবনে গিয়ে বাঁচার চেষ্টা করা যায় না। ছাদে তালা দেওয়া যাবে না। এখন অভিযান চালিয়ে এটি নিশ্চিত করতে হবে। 

চতুর্থত, ছাদ থেকে নিচে নামা বা অন্য ভবনে যাওয়ার বিকল্প কিছু রাখতে ও থাকতে হবে। ছাদ থেকে জরুরিভিত্তিতে নামার ব্যবস্থা বিল্ডিং ডিজাইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ছাদের দুই দিকে জরুরি নামার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে একদিকে আগুন লাগলে অন্য দিক দিয়ে নামা যায়। 

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে অন্তত ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আরও ৪২ জনকে। একই পরিবারের পাঁচজনসহ মারা গেছেন ৪৬ জন। এর মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে ৩১, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ এবং রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে একজন মারা গেছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি মৃতদেহ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা