প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ২১:০১ পিএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ২১:০৯ পিএম
আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি : প্রবা
কমিশন গঠন করে দ্রুত জাতীয় চারনেতা হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘জেলহত্যার শিকার চারনেতা একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে শীর্ষ সেনাপতির ভূমিকা পালন করেছেন। এই চার দেশপ্রেমিক সূর্যসন্তানকে স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষ জেলের ভেতর হত্যা করেছে। এই ন্যাক্কারজনক হত্যার বিচার নিশ্চিতে দ্রুত কমিশন গঠন করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘জেলহত্যা : মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি নির্মূলে ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
আলোচনা সভায় উপাচার্য আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর টুঙ্গিপাড়া আমাদের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। কোনো প্রেসক্রিপশনে আমরা এখানে আসিনি। সেই যে ৭ মার্চের ভাষণে আমরা এক হয়েছি, এখনও এক। সেই টান আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করে কীভাবে দেশকে স্বাধীন করতে হয় তা বঙ্গবন্ধু জানতেন। বেঁচে থাকলে আজ তিনি বিশ্বসেরা নেতা হতেন।’
‘আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করি, যারা মনে করি আমরা আজ যে জায়গায় পৌঁছেছি, সেখানে আসার পেছনে জাতীর চারনেতার ভূমিকা আছে, আমরা সবাই চাই এ হত্যার বিচার হোক। হত্যার বিচার নিশ্চিতে দ্রুত কমিশন গঠন করতে হবে।’
বঙ্গবন্ধু পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান মণ্ডল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আড়াই মাস পর আরও চারনেতাকে হত্য করা হয়। বিএনপি একের পর এক গণহত্যা চালিয়েছে। ২৫ মার্চের ঘটনা গণহত্যা, ৩ নভেম্বরের ঘটনাও গণহত্যা, গ্রেনেড হামলাও গণহত্যা। সংবিধান অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতীয়তা বাঙালি রেখেছিলেন। কয়েক বছর পর জিয়া এসে সেটাও আর রাখেননি। তাহলে তাদের দায়িত্ব কি শুধু এই জাতিকে বিলীন করা? তবে তারা ব্যর্থ হয়েছে। সেটা যেন সবসময় হয়। আমরা চেষ্টা করে যাব।’
বক্তব্যে চাঁদপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাছিম আক্তার বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক চারনেতার সবাইকে লোভ দেখিয়েছিলেন, কিন্তু তারা আসেননি। তখন বঙ্গবন্ধু বেঁচে নেই। এই চেতনাকে ধারণ করেই তারা মারা গেছেন।’
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে চারনেতার হত্যার বিচারে কমিশনের কথা বলে এসেছি। এটা হলে বিরুদ্ধ শক্তিদের প্রতিরোধ করা যাবে।’
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার জীবন রক্ষায়ও সংগ্রাম করে গেছেন। ৩৭টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। একদিকে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে চেয়েছেন, অন্যদিকে এ দেশের স্বাধীনতা চেয়েছেন। আমি এই চারনেতার কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর তো তুলনাই হয় না। আর চারনেতা ছিলেন দুর্দান্ত।’