প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ২২:৫২ পিএম
আদি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে খোলামোড়া পর্যন্ত দেশের নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ৯ দফা দাবিতে নৌকা র্যালী ছবি : আলী হোসেন মিন্টু
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর আদি বুড়িগঙ্গা নদী থেকে খোলামোড়া পর্যন্ত দেশের নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ৯ দফা দাবিতে নৌকা র্যালী করেছে নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন নোঙর ট্রাস্ট।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান অতিথি হিসেবে নৌ-র্যালী উদ্বোধন করেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মো: কামরুল ইসলাম। এ সময় বুড়িগঙ্গা নদীর শতাধিক মাঝির মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বেড়িবাঁধ আর চরের মধ্যবর্তী জায়গায় বুড়িগঙ্গার একটি চ্যানেল ছিল আদি বুড়িগঙ্গা নামে। সময়ের পরিক্রমায় আদি বুড়িগঙ্গা অর্ধমৃত রূপ ধারণ করেছে। নদীতে পানির প্রবাহ চোখে পড়ে না। সেখানে জমে আছে ময়লার বিশাল স্তূপ। কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগ থেকে রায়েরবাজার পর্যন্ত আদি বুড়িগঙ্গার প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই চ্যানেলের দুই পাশে এখনো রয়েছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। স্থানীয় প্রভাবশালীরা গত ৫০ বছর সময় ধরে আদি বুড়িগঙ্গার ওপর গড়ে তুলেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নোঙর ট্রাস্ট চেয়ারম্যান সুমন শামস বলেন, রাজধানী ঢাকার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে কামরাঙ্গীরচরের কোল ঘেঁষে বয়ে চলতো আদি বুড়িগঙ্গা। সে নদীতে এখানে জলের প্রবাহ দেখা যায় না। প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার নদীর জায়গায় জায়গায় দখল, গজিয়ে উঠেছে কাঁচাপাকা অবৈধ স্থাপনা। মরণদশা থেকে রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আদি বুড়িগঙ্গা, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীসহ ঢাকা শহরের হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি খাল বাঁচাতে হবে।
তিনি বলেন, আদি বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের বসতবাড়ি, বাজার ও কারখানা থেকে সব বর্জ্য ফেলে হচ্ছে পানিতে। ফলে পানির প্রবাহের জায়গা ময়লার বিশাল স্তূপ গড়ে উঠেছে। ভাসমান এ ময়লার স্তূপ এতটাই পুরু হয়েছে যে, এর ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে।
অনুষ্ঠানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের ইস্তেহারে দেশেরে সকল নদী, খাল, বিল, বিল, হাওরবাওর, পুকুর, জলাশয়, প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সকল সাংসদের শপথ গ্রহণ, আদালতের নির্দেশ মেনে ১৯৪০ সালের সিএস নকশাসহ আরএস, বিএস, এসএ, ড্যাপ এবং জলাধার আইন অনুযায়ী সকল জেলার নদী-শাখা নদী ও খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এবং সীমানা পিলার স্থাপন করে পুণরায় প্রবাহ নিশ্চিত করা, রাজধানীর হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে বৃত্তাকার নৌপরিবহণ চালু করা, নদীর সকল বাঁধ, স্বল্প উচ্চতার সতেু-কালর্ভাট অপসারণ করে নৌ পরিবহন যোগ্য নৌপথ তৈরি করা, নদী দখল-দূষণকারী, বালু খেকো, ভূমি দস্যুদেও সকল ধরণের নির্বাচনে অংশগ্রহনে অযোগ্য ঘোষণা করাসসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়।
৯ দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক মিহির বিশ্বাস, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি আমির হোসেন মাসুদ, রিভারাইন পিপলের পরিচালক আইরিন সুলতানাসহ কামরাঙ্গীরচর থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং দক্ষিণ সিটি করর্পোরেশনের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।