প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১৯:৪২ পিএম
বারিধারায় পাড়া উৎসব উদ্বোধনের পর ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গান। প্রবা ফটো
প্রতিবেশীরা দীর্ঘদিন এক ভবনে বসবাস করেও শহর এলাকায় কেউ কাউকে সেভাবে চেনেন না। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগও হয় না। তাই সবার সঙ্গে পরিচিত হতে, সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ৩ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত হলো পাড়া উৎসব। যৌথভাবে এ পাড়া উৎসবের আয়োজন করে ডিএনসিসি, হিরোস ফর অল ও বারিধারা সোসাইটি।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথেরিন কুক, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত লিও টিটো এল অসান জুনিয়র, ব্রুনাই দারুসসালামের রাষ্ট্রদূত হাজী হারিস বিন ওথমান, জাপান দূতাবাসের মন্ত্রী (ডিসিএম) মাচিদা তাৎসুয়া, লিবিয়া দূতাবাসের মিনিস্টার প্লেনিপটেনশিয়ারী আবদালফাত্তাহ খিতরেশ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকার হেড অব স্কুল জন স্মিথিসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দিনব্যাপী উৎসবে ছিল দেশীয় পিঠার স্টল, বায়োস্কোপ, পুতুল নাচ, ম্যাজিক শো, স্বাস্থ্য সেবা স্টল, পাটের তৈরি পণ্য। এছাড়া উইশ বোর্ড, শিশুদের ছবি আঁকার ক্যানভাস ও রং তুলি, ক্যারাম বোর্ড, টেবিল টেনিস দাবাসহ নানা ধরনের খেলার সামগ্রী ছিল। পাশাপাশি স্ট্রিট ফুড, ট্যালেন্ট শো, স্ট্যান্ড-আপ কমেডি, পথনাটক, খেলাধুলা, ট্রেডিশনাল ও মর্ডান মার্শাল আর্টসের আয়োজন করা হয়। সবার জন্য উন্মুক্ত এই পাড়া উৎসব চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবাই মোবাইল ফোনে, ইন্টারনেটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। সমাজের সবার সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুব প্রয়োজন। পাশের বাসার মানুষকে আমরা চিনি না। প্রতিবেশীর বাসায় কি সমস্যা সেটা আমরা জানি না, খোজ নেই না। ছোটবেলায় আমরা পাড়ায় পাড়ায় উৎসব করতাম। প্রতিবেশীদের বাসায় হালুয়া, রুটি বিতরণ করতাম। সমাজের সবার মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। ছোটরা বড়দের সম্মান করতাম, দেখলে সালাম দিতাম। ঢাকায় এ ধরনের চিত্র দেখা যায় না। সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’
মেয়র বলেন, ‘গ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে, সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এর আগে উত্তরায় ও গুলশানে পাড়া উৎসবের আয়োজন করেছি। পাড়া উৎসবের মাধ্যমে বলতে চাই আমরা মানুষের পাশে আছি। পাড়া উৎসব থেকে বলতে চাই আমরা প্রতিবেশীর সুখের সময় পাশে না থাকলেও অন্তত বিপদের সময়ে পাশে থাকবো।’
বারিধারা লেকের পানি দূষণমুক্ত করতে পয়োবর্জ্যের লাইনে কলাগাছ ঢুকিয়ে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন মেয়র। তিনি বলেন, ‘গত বছর কলাগাছ ঢোকানো হয়েছে বারিধারার কয়েকটি বাড়িতে। দরকার পড়লে আরও বাড়িতে কলাগাছ ঢুকবে। কিন্তু পয়োবর্জ্যের জন্য আপনারা ড্রেন ব্যবহার করতে পারবেন না। লেকের পানি দূষিত হয়ে গেছে। সেখানে আমরা মাছের চাষ করতে পারছি না। মশার চাষ হচ্ছে।’
পাড়া উৎসব উদ্বোধনের পর ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম ঢাক ঢোল বাজাতে বাজাতে বাজাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুককে ডেকে নেন। পরে মেয়র স্বাদের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী...গানটি শুরু করেন এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গানটি গাইতে অনুরোধ করেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনারও বাংলার এই জনপ্রিয় গানটি গান এবং উচ্ছ্বসিত হোন।
পরে মেয়র ডেকে নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মাকে। কাছে ডেকে নিয়ে ঢাকা ঢোলের তালে শুরু করেন ‘চুমকি চলেছে একা পথে, সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে...।’ পরে ভারতীয় হাইকমিশনারকেও গানটি গাইতে বলেন। মেয়রের সঙ্গে গানটি গেয়ে শোনান ভারতীয় হাইকমিশনার। এছাড়াও মেয়রের সঙ্গে গান গেয়ে শোনান ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত লিও টিটো এল অসান জুনিয়র। পরে মেয়র ব্রুনাই দারুসসালামের রাষ্ট্রদূত হাজী হারিস বিন ওথমানের সঙ্গে টেবিল টেনিস খেলেন। এভাবেই ডিএনসিসি মেয়র উৎসবে আগত স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে ভাগাভাগি করে নেন।
‘হিরোস ফর অল’ এর প্রতিষ্ঠাতা রেহনুমা করিমের সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর হাছিনা বারী চৌধুরী, বারিধারা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ফিরোজ এম হাসান প্রমুখ।