বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ ২১:০০ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। প্রবা ফটো
পুরান ঢাকা ও সদরঘাট এলাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা সরানোর দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সদরঘাটের হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
উপাচার্য বলেন, ‘পুরান ঢাকায় অনেক কলকারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি আছে। এসব পরিবেশে এসে মিশছে। এখনোই পদক্ষেপ নিয়ে এগুলো সরানো উচিত।’
তিনি বলেন, ‘পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্কুলে অনেক ছোট ছোট বাচ্চা পড়াশোনা করছে। কিন্তু এখানকার বায়ুর যা অবস্থা, আমার মনে হয় বাচ্চাগুলোর রক্ত পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে এখানকার বায়ুর প্রভাব তাদের ওপরে কতটা পড়ছে। বুড়িগঙ্গা নদী এখন এতটাই দূষিত হয়ে পড়ছে যে দূষিত বায়ুর প্রভাব শিশুদের ওপর পড়ছে।’
বর্তমান অভিভাবকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে সাদেকা হালিম বলেন, ‘প্রতিবছর ফলাফলের পর কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এর কারণ হিসেবে আমি অভিভাবকদেরই দায়ী করব। প্রতিযোগিতার এই যুগে অভিভাবকরা তাদের অজান্তে-অগোচরে সন্তানদের আত্মহত্যার দিকে ঢেলে দিচ্ছে। অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। যার কারণে তারা মাদকসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে।’ এ থেকে বের হতে শাসন না করে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ছেলেমেয়েদের স্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই উপাচার্য।
তিনি বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মেলবন্ধন প্রয়োজন। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের বিকাশে সুযোগ-সুবিধা অনেক সীমিত, গ্রামীণ শিশুদের তুলনায় শহরের শিশুরা বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। একটি শিশু ছোটবেলা থেকেই ভালো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে উঠলে তার ভিতটা অনেক মজবুত হবে, নতুবা তাকে যত বড় ইনস্টিটিউটেই পড়তে পাঠান না কেন, সে ভালো করবে না। অভিভাবদের প্রতি অনুরোধ, কোমলমতী শিশুদের প্রতি আপনারা কঠোর হবেন না, জোর করে তাদের প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেবেন না। এসবের কারণেই তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।’
অনুষ্ঠানে হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ টলবার্ট ডোবেসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।