সেমিনারে আবুল মনসুর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:০৮ পিএম
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:২০ পিএম
ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার রিকশাচিত্র। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক আবুল মনসুর। তিনি বলেন, সারা দেশে রিকশাচিত্র আছে। একেক জায়গায় একেকরকম চিত্র আছে। তাই শুধু ঢাকার রিকশাচিত্রের কথা উঠে আসায় আমার কিছুটা দ্বিমত আছে। রিকশা আর্টগুলোর আলাদা নিজস্বতা আছে। নিজস্ব কল্পনার জগৎ থেকে একটানে শিল্পীরা এ ছবি আঁকেন।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জয়নুল স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি তুলে ধরেন চিত্রশিল্পের নানা দিক। এ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয় চারুকলা অনুষদের পেছনে জয়নুল আবেদীনের অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও আধুনিক স্থাপত্যের পথিকৃৎ মাজহারুল ইসলাম এই দুই মহীরুহ মিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট ডিজাইন করেন। আমি এসএসসি পাস করে এখানে এসে ভর্তি হই। তখন দুই মাস ক্লাস হয়ে গেছে। সে সময় জয়নুল আবেদীনকে দেখতাম এখানে একটা টুল নিয়ে বসে থাকতেন। টিফিন ক্যারিয়ারে তাদের খাবার আসত। সে সময় চারুকলার পরিবশে ছিল আরও খোলামেলা। আমরা ভাবতাম এত জায়গা কেন নষ্ট করছে। আরও দালানকোঠা নির্মাণ করা যায়। নিচে পানি উঠত। এ সময় জয়নুল আবেদিন বলতেন, একটু পানি আসুক না, একটু ভাসুক না। আসলে তিনি চাইতেন শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির কাছাকছি রাখতে। তিনি চারুকলার সামনের ভবনটিকে ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করার প্রস্তাব জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন বলেন, কত সুন্দর করে চিত্রশিল্পের আদ্যোপান্ত জানলাম! কত ছোট ছোট গল্প আছে সে সময়ের। এসব নিয়ে কোনো স্থপতিকে পাওয়া গেল না যে একটা লেখা দেবে। তবে আমি আশা করি সামনে লেখা পাব। এই গল্পগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি বলেন, জয়নুল আবেদিন খোলামেলা পরিবেশ পছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, আমি শান্তি নিকেতনের মতো খোলামেলা পরিবেশ চাই, একটা ঝুলন্ত সিঁড়ি চাই। তার এই চাওয়াটা নিয়ে খুব একটা কথা বলতে শুনিনি আমি। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের ৭৫ বছর পূর্তি ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ছিল শনিবার। এর আগের দিন সকালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উৎসব। এরপর চারুকলার বকুলতলায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। উৎসবে জয়নুল মেলাসহ সম্মাননা প্রদান, শিল্পীদের পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
চারুকলা অনুষদে জয়নুল মেলা চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন বলেন, উৎসবটি আরও বিস্মৃত পরিসরে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে আয়োজনটি তিন দিনের করা হয়েছে।